দোস্তি সে জাদা কুছভি নেহি’, হিন্দি সংলাপে ভারতকে বার্তা রুশ রাষ্ট্রদূতের

: ৭১-এর যুদ্ধে ভারতের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল সোভিয়েত রাশিয়া। কাশ্মীর ইস্যুতেও বারবার পাশে থেকেছে মস্কো। সেই সম্পর্ক বজায় রেখে ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়লেও ‘বন্ধু’ মস্কোর হাত ছাড়েনি নয়াদিল্লি। সেই সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করে ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতের বার্তা, ‘দোস্তি সে জাদা কুছভি নেহি’।

সোমবার নয়াদিল্লিতে শুরু হয় ‘রাশিয়া কালচারাল ফেস্টিভ্যাল’। সেখানে দুই দেশের মানুষের মধ্যে (পিপল টু পিপল) সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান আরও মজবুত করার কথা বলেন ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপোভ। সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনায় কিছুটা আবেগে ভেসে ‘বন্ধু’ দেশের প্রতিনিধি বলেন, “ভারতে একটি কথা খুব প্রচলিত–দোস্তি সে জাদা কুছভি নেহি হোতা। ভারত-রাশিয়া সম্পর্কও এমনই। করোনা মহামারীর পর এবার ফের এই অনুষ্ঠান (রাশিয়া কালচারাল ফেস্টিভ্যাল) শুরু হচ্ছে। দিল্লি, মুম্বই ও কলকাতায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতার মধ্যে একটির প্রতি সম্মান জানানো হবে।” বলে রাখা ভাল, দুই দেশের মধ্যে কূটনীতিক সম্পর্কের ৭৫ বর্ষপূর্তি এবছর।

উল্লেখ্য, ইউক্রেন ইস্যুতে শুরু থেকেই রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। দিনকয়েক আগে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব আনা হলে ভোটাভুটিতে যোগ দেয়নি নয়াদিল্লি। ৯৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিলেও বিরোধিতা করেছে ১৪টি দেশ। ভারত-সহ ৭৩টি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থেকেছে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছিল ইউক্রেন (Ukraine)। ওই প্রস্তাবে মস্কোর বিরুদ্ধে আগ্রাসন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ করে কিয়েভ। তা নিয়ে ভারত স্পষ্ট জানায়, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে প্রস্তাব চাইলেই কি ইউক্রেনে যুদ্ধ থেমে যাবে। শুধু তাই নয়, এহেন প্রস্তাবের আইনি বৈধতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করে ভারত।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিবাদে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জেরে বেকায়দায় পড়েছে রাশিয়া (Russia )। বিদেশে সঞ্চিত প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের মুদ্রাভাণ্ডারে হাত দিতে পারছে না মস্কো। একইসঙ্গে, রাশিয়ার ব্যাংকগুলিকে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের ‘সুইফট’ ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জার্মানি ও আমেরিকার মতো দেশগুলি রুশ তেল ও গ্যাস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এহেন পরিস্থিতিতে রুশ তেল কিনে মস্কোকে অনেকটাই চাপমুক্ত করছে ভারত ও চিন। ওয়াশিংটনের চাপ সত্ত্বেও মোদি সরকার ইঙ্গিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে পুতিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।
খবর সংবাদ প্রতিদিন /এনবিএস/২০২২/একে news