বাঘের লেজে পা দিয়ে নিজের বিপদ নিজেরাই ডেকে এনেছে ইসরায়েল। সম্প্রতি ইসরায়েলের বিমান হামলায় হুতির প্রধানমন্ত্রী আহমেদ গালেব নাসের আল-রাহীসহ ১১ শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর গর্জে উঠেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা, আর সেই গর্জনে কেঁপে উঠেছে ইসরায়েলের ভূখণ্ড।

হুতিরা নতুন করে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যদিও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে, তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ মধ্য ইসরায়েলে গিয়ে পড়েছে, যা বৃহৎ অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করেছে।

তেল আবিবের গুরুত্বপূর্ণ বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ করতে হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে লাখ লাখ মানুষ মাটির নিচে বোম শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে।

এর আগে হুতির পলিটিক্যাল ব্যুরো সদস্য ধাইফাল্লাহ আল-শামী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে ইসরায়েলের জন্য আরও বড় চমক অপেক্ষা করছে। এবার হুতির নতুন হামলায় প্যালেস্টাইন-২ সিরিজের ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যার একাধিক ওয়ারহেড রয়েছে। এছাড়া জুলফিকার সিরিজের একটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েও হামলা চালানো হয়েছে। হুতিরা এটিকে সফল হামলা বলে দাবি করেছে।

গোষ্ঠী জানিয়েছে, এই হামলা গাজায় গণহত্যা এবং ইয়েমেনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রাথমিক প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবারও হুতিরা ইসরায়েলের পাঁচটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারী জানিয়েছেন, এই হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর, হাদেরা পাওয়ার স্টেশন, বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর, আশদোদ বন্দর এবং লোহিত সাগরে একটি জাহাজ। চারটি হামলায় সামাদ ফোর ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল।

হুতির প্রধানমন্ত্রী আহমদ আল-রাহভী ও কয়েকজন মন্ত্রীর হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হুতির চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আল-গামারী। তিনি বলেছেন,
“এই হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে ইসরায়েল নিজেই নিজের জন্য জাহান্নামের দরজা খুলেছে।

আল-গামারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে আরও কঠোর এবং বেদনাদায়ক পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি ইয়েমেনের জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন,
“ইসরায়েলের পরিণতি শীঘ্রই তোমরা দেখতে পাবে, আর সেই পরিণতি দেখেই শান্তি অনুভব করবে। ইয়েমেন আরও সুসংগঠিত হামলা চালাবে।
 

news