বাংলাদেশে ব্রিটিশ সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার প্রক্রিয়াকে "সাজানো ও অন্যায্য" বলে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন একদল বিশিষ্ট ব্রিটিশ আইনজীবী। টিউলিপের বিরুদ্ধে চলা প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আগামী ১ ডিসেম্বর ঘোষণার কথা রয়েছে। ঠিক এই সময়ে আইনজীবীদের এই চিঠি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবার পার্টির এই সাংসদ ও সাবেক মন্ত্রী চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্য সরকারের পদ থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই বাংলাদেশে মামলার তদন্ত হয়েছে এবং এই মামলার রায় দেবার সময়ও তিনি উপস্থিত থাকবেন না। মামলার অভিযোগকারী পক্ষ টিউলিপের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চেয়েছে।

উল্লেখ্য, হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের এমপি টিউলিপ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি। গত সপ্তাহে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র-জনতা আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে পাঠানো চিঠিতে সাবেক ব্রিটিশ বিচারমন্ত্রী রবার্ট বাকল্যান্ড, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিভ সহ একদল উচ্চপর্যায়ের আইনজীবী দাবি করেন যে, টিউলিপ সিদ্দিক ন্যায়বিচারের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁকে অভিযোগ সম্পর্কে জানার সুযোগ দেওয়া হয়নি, এমনকি প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তাও দেওয়া হয়নি।

এই আইনজীবী দলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের স্ত্রী চেরি ব্লেয়ার, ফিলিপ স্যান্ডস ও জিওফ্রি রবার্টসনের মতো নামকরা ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এঁরা সবাই কিংস কাউন্সিল, অর্থাৎ রাজকীয় উপাধিপ্রাপ্ত উচ্চমর্যাদার আইনজীবী।

তাঁরা আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন যে, টিউলিপ যে আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন, তাঁকে গৃহবন্দী করা হয় এবং তাঁর মেয়েকে হুমকি দেওয়া হয়। চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, "এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ কৃত্রিম। এটি একটি সাজানো ও অন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়া।"

টিউলিপ, তাঁর খালা, মা, ভাই ও বোনসহ পরিবারের বেশ কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক মামলা চলছে। মূল অভিযোগ হলো, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে টিউলিপ তাঁর খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে ঢাকার একটি উপশহরে মায়ের জন্য জমি বরাদ্দ নেওয়ায় ভূমিকা রেখেছিলেন। টিউলিপ অবশ্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এবং এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

আইনজীবীরা তাদের চিঠিতে লিখেছেন, "বাংলাদেশে চলমান এই ফৌজদারি মামলাগুলো নিয়ে আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিয়মিত আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের কথা বলছেন।"

তাঁরা যুক্তি দেখিয়েছেন, "টিউলিপ যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং নির্বাচিত সাংসদ হওয়ায় তাঁকে পলাতক বলা যায় না। তিনি হাউস অব কমন্সেই পাওয়া যান। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশ চাইলে তাঁকে ফেরত চাইতে পারে।"

আইনজীবীরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের চিঠিতে আহ্বান জানিয়েছেন, "এই অনিয়মগুলো সংশোধন করে ন্যায়সংগত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করুন।"

Tulip Siddiq trial, British lawyers letter, Bangladesh High Commission, UK Bangladesh relations, corruption case, judicial process, human rights, Robert Buckland, Dominic Grieve, Sheikh Hasina, political case, legal controversy, international law, British MPs, Bangladesh politics, fair trial demand

news