যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র, এবার ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে কঠোর সামরিক হামলার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এমন পদক্ষেপ নিলে ইরানে চলমান বিক্ষোভ আরও জোরালো হবে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসবে।
ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম খুব সরাসরি বলেন, “আমরা যাই করি না কেন, তার লক্ষ্য হওয়া উচিত বিক্ষোভকারীদের সাহস জোগানো আর শাসকদের ভয় দেখানো। আমি যদি আপনার জায়গায় থাকতাম মিস্টার প্রেসিডেন্ট, তাহলে যারা জনগণকে হত্যা করছে, সেই নেতৃত্বকেই হত্যা করতাম। এটা থামাতেই হবে!”
তিনি আরও যোগ করেন, “যদি এটা ভালোভাবে শেষ হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি নেমে আসবে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলা সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। হিজবুল্লাহ, হামাসের মতো গ্রুপগুলো হারিয়ে যাবে। ইসরায়েল ও সৌদি আরব শান্তিতে থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যে একটা নতুন যুগ শুরু হবে!”
এর আগে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে গ্রাহাম ইরানের জনগণকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “ইরানের জনগণ, তোমাদের দীর্ঘ দুঃস্বপ্ন খুব শিগগিরই শেষ হতে চলেছে। নিপীড়ন বন্ধ করতে যে সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছ, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর স্বাধীনতাপ্রিয় সব মানুষের নজর কেড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন বলেন 'ইরানকে আবার মহান করে তোলো', তখন তিনি আসলে বোঝাতে চান—ইরানের আন্দোলনকারীদের অবশ্যই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সরকারের ওপর জয়ী হতে হবে। এটাই সবচেয়ে স্পষ্ট সংকেত যে, আয়াতুল্লাহ ও তার সহযোগীরা ক্ষমতায় থাকলে ইরান কখনো মহান হতে পারবে না।”
শেষে তিনি লিখেছেন, “ইরানে যারা ত্যাগ স্বীকার করছেন, সৃষ্টিকর্তা তোমাদের মঙ্গল করুন। সাহায্য আসছে।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু খুব দ্রুতই তা ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইরান সরকারের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই বিক্ষোভে ইন্ধন জোগাচ্ছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরান প্রায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে দেশের ভেতরের আসল পরিস্থিতি জানা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই ঘটনা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনা চলছে। দেখা যাক পরবর্তীতে কী ঘটে!
