যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)–বিরোধী বিক্ষোভ। শনিবার মিনিয়াপলিসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনার পর দেশজুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভকারীরা নিহত রেনি গুডের জন্য ন্যায়বিচার এবং নিজ নিজ কমিউনিটি থেকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।

মিনিয়াপলিসে হাজার হাজার মানুষ পার্ক, আবাসিক এলাকার রাস্তার পাশে এবং ফেডারেল ভবনের সামনে জড়ো হয়ে রেনি গুডের নাম ধরে স্লোগান দেন। তার মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কৌশল নিয়ে জাতীয় ক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন দমন অভিযান চলাকালেই এই ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।

লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউ ইয়র্ক থেকে শুরু করে ওয়াশিংটন ডিসি, এল পাসো এবং বোস্টন—প্রায় সব বড় শহরেই একই ধরনের বিক্ষোভ দেখা গেছে। ‘আইসিই আউট ফর গুড’ নামের জাতীয় পর্যায়ের একাধিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ এই সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে এক হাজারের বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল।

“আইসিই-এর হাতে রেনি নিকোল গুডের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া জোরালো, শান্তিপূর্ণ এবং অনিবার্য,” শনিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে জোটের সদস্য সংগঠন ইনডিভিজিবল। পোস্টে বিভিন্ন শহরের বিক্ষোভের ছবিও শেয়ার করা হয়।

জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বিক্ষোভগুলো আইসিই-এর সহিংসতার বাড়বাড়ন্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। রেনি গুডের প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর মাসের পর মাস ধরে চলা নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনাই মানুষকে রাজপথে নামিয়েছে। তারা জোর দিয়ে জানায়, সব সমাবেশই অহিংস, আইনসম্মত এবং কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন, যেখানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের দাবি তোলা হচ্ছে।

এদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিব ক্রিস্টি নয়েম ফক্স নিউজের ‘সানডে মর্নিং ফিউচারস’ অনুষ্ঠানে জানান, মিনিয়াপলিসে আরও “শত শত” কাস্টমস ও সীমান্ত টহল কর্মকর্তা পাঠানো হবে। তিনি বলেন, “আজ ও আগামীকাল আরও অফিসার পাঠানো হচ্ছে, যাতে মিনিয়াপলিসে দায়িত্ব পালনরত আইসিই ও সীমান্ত টহল কর্মকর্তারা নিরাপদে কাজ করতে পারেন।”

 

news