গাজার আকাশে আবারও থমথমে উত্তেজনা। ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে হামলা চালিয়ে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে লঙ্ঘন করেছে। শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনিস থেকে শুরু করে গাজা শহরের জেইতুন এলাকায় চলেছে বোমাবর্ষণ ও গোলাগুলি। এতে অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন।
বিশেষ করে উদ্বেগজনক একটি ঘটনা খান ইউনিসে। একটি ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আহত এক ফিলিস্তিনিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই নিহত হতে হয়। পাশাপাশি, জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারান আরও দুই নাগরিক।
গাজা থেকে সরাসরি প্রতিবেদন দিচ্ছেন আলজাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম। তার বর্ণনায়, "পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ দিকে মোড় নিচ্ছে। আকাশে ড্রোনের ভনভন শব্দ, আর যুদ্ধবিরতির সীমারেখা পেরিয়ে চলছে হামলা।" তিনি আরও জানান, রাফাহ, খান ইউনিস ও জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইসরায়েলের হাত শক্তিশালী হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের পক্ষ থেকে দাবি করেছে, তারা উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় তিনজন 'হুমকিস্বরূপ' ফিলিস্তিনিকে নিষ্ক্রিয় করেছে, যাদের একজন সামরিক সরঞ্জাম চুরি করতে গিয়েছিল।
এদিকে, গাজায় মানবিক বিপর্যয় চরমে। তীব্র শীতে কাঁপছে লক্ষ লক্ষ বাস্তুহারা মানুষ। মাত্র সাত দিন বয়সী নবজাতক মাহমুদ আল-আকরা মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে শনিবার ঠান্ডায় মারা যায়। ইসরায়েলের কড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যাপ্ত ত্রাণ, তাঁবু বা ভ্রাম্যমাণ ঘর গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইনেরও স্পষ্ট লঙ্ঘন। গাজার সিভিল ডিফেন্স সতর্ক করেছে, প্রবল বাতাস ও বৃষ্টিতে হাজার হাজার অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।
সবশেষে আরও একটি বড় অভিযোগ উঠেছে। সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি দাবি করেছেন, ইসরায়েল গাজার ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক আফ্রিকার স্বাধীনতাকামী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর গোপন পরিকল্পনা করছে। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করেছেন।
