ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে হাতিয়ার করে ক্ষমতায় ফিরতে চাইছেন নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগেই দেশ ছেড়েছিলেন ৬৫ বছর বয়সী এই রাজপুত্র। এরপর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বসেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছেন পাহলভি। একই সঙ্গে তিনি ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনের আহ্বানও জানিয়েছেন। এক ভিডিওবার্তায় পাহলভি বলেন, “আমরা ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং এর জীর্ণ, ভঙ্গুর দমনমূলক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে নতজানু করব।”
ইরানে পাহলভির কতটা সমর্থন?
ইরানের ভেতরে রেজা পাহলভির প্রকৃত জনসমর্থনের মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু যাচাইকৃত ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ‘শাহ দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এতে বোঝা যায়, অন্তত একটি অংশের মধ্যে তার প্রতি সহানুভূতি রয়েছে।
তবে বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ বিক্ষোভকারী কোনো নির্দিষ্ট নেতার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন না। তাদের মূল স্লোগান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে—‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধ ইরানের অর্থনীতিকে আরও নড়বড়ে করে দিয়েছে, যা এই বিক্ষোভের বড় প্রেক্ষাপট হয়ে উঠেছে।
উত্তর ইরানের ২৭ বছর বয়সি তরুণী আজাদেহ এক বার্তায় বলেন, “রেজা পাহলভি যা শিখেছেন, তা তার বাবার কাছ থেকেই—যিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। আমরা পাহলভিদের সময় দেখেছি, এখন সময় একটি গণতান্ত্রিক দেশের।”
ক্ষমতা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত দাবি
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি যেভাবে একক নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনো একক নেতা নেই। এই নেতৃত্বের শূন্যতায় নিজেকে ‘রূপান্তরের নেতা’ হিসেবে তুলে ধরছেন পাহলভি।
১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া রেজা পাহলভিকে ১৯৬৭ সালে তার বাবার রাজ্যাভিষেকের সময় যুবরাজ ঘোষণা করা হয়। শাহ শাসনামলে রাজপরিবারের বিলাসী জীবনযাপন ও তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছিল। এর সঙ্গে যোগ হয় শাহের কুখ্যাত গোপন পুলিশ সাভাকের দমননীতি।
ইরান ছাড়ার পর পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২৩ সালে তিনি ইসরায়েল সফর করে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এমনকি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পক্ষেও সমর্থন জানান তিনি।
তবে এখনো পর্যন্ত পশ্চিমা সরকারগুলোর কাছ থেকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক সমর্থন পাননি পাহলভি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বললেও মন্তব্য করেছেন, এই মুহূর্তে পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ‘উপযুক্ত নাও হতে পারে’।
