ইরানে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছেন নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি। তবে প্রশ্ন একটাই—ইরানিরা আদৌ তাঁকে নেতা হিসেবে মেনে নেবে কি না? এই প্রশ্নে প্রকাশ্যেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
“রেজা পাহলভি দেখতে বেশ অসাধারণ। কিন্তু আমি জানি না, তিনি নিজের দেশে কতটা সফল হবেন। আমরা এখনও সেই পর্যায়ে যাইনি। আমি নিশ্চিত নই, তার দেশ তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে কি না। যদি তারা করে, তাহলে আমার কোনো সমস্যা নেই।”
এর আগের সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রেজা পাহলভির সঙ্গে তাঁর কোনো সাক্ষাতের পরিকল্পনা নেই। আর চলতি সপ্তাহে এসে আরও স্পষ্টভাবে বলেন, পাহলভির নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
উল্লেখ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গত বৃহস্পতিবার তা সহিংস রূপ নেয়। ওই রাতেই সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান রেজা পাহলভি। পরদিন শুক্রবারও একই ধরনের ডাক দেন তিনি।
এই দুই রাতেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ। বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে কঠোর অবস্থান নেয় ইরানের নিরাপত্তাবাহিনী। এতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—পাহলভির ডাক কি আদৌ ইরানের জনগণের সমর্থন পাবে, নাকি তা কেবল নির্বাসিত স্বপ্নই থেকে যাবে?
