ইরানের বিরুদ্ধে বড় কোনো সামরিক হামলা চালানো হবে কিনা তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম দ্বিধার মধ্যে রয়েছেন। দেশটির বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে তীব্র টানাপোড়েন চলছে। মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা উপদেষ্টারা সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ব্যাপক আকারের কোনো আক্রমণ ইরানের সরকারের পতন ঘটাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং এমন পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
সীমিত হামলাই কি যথেষ্ট?
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে ছোট বা লক্ষ্যসীমিত হামলা হয়তো ইরানের বিক্ষোভকারীদের মনোবল বাড়াতে পারে। কিন্তু তেহরানের দমন-পীড়নের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনতে এটা যথেষ্ট শক্তিশালী নাও হতে পারে।
বড় হামলার বিপদ কতটা?
অন্যদিকে, বড় আকারের সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে পাল্টা আক্রমণ রুখতে এবং ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য মোতায়েনের চেয়ে অনেক বেশি সৈন্য ও অস্ত্রের প্রয়োজন হবে।
হোয়াইট হাউসের হুঁশিয়ারি
এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চলতে থাকলে ইরানকে তার "ভয়ানক পরিণতি" ভোগ করতে হবে—এই বার্তা ওয়াশিংটন আগেই দিয়েছে।
ট্রাম্পের নরম নীতি, নাকি কৌশল?
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সরকার ৮০০ জনের মৃত্যুদণ্ডের পরিকল্পনা স্থগিত করেছে বলে সংবাদ এসেছে। ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। কিন্তু তার এই নরম অবস্থান আসলে কি কৌশলগত? কারণ এর মধ্যেই তিনি দক্ষিণ চীন সাগর থেকে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রার নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছেন, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতিও বাড়িয়ে রাখছেন।
