ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কে এই বৈঠক হওয়ার কথা। এক আরব কূটনৈতিক কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ওই দিন মার্কিন আলোচক দল ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মুখোমুখি আলোচনায় বসতে পারেন। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্যটি দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও ওমানের মধ্যস্থতায় এই সম্ভাব্য বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইরান পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান জানালেও যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে—চুক্তিতে না পৌঁছালে তার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে তেহরানকে।
গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। ওই বিক্ষোভে ব্যাপক দমন–পীড়নের অভিযোগ ওঠে। এর জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর নির্দেশও দেন তিনি।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ, একটি বিমানবাহী রণতরি এবং তিনটি উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতেই এই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে ওয়াশিংটন।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে সেটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জনগণকে মার্কিন হুমকিতে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান।
খামেনি সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে একটি ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা কেন্দ্র, ব্যাংক ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
খামেনির বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি এখনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী। তবে চুক্তি না হলে কী হতে পারে—সে বিষয়ে সময়ই সব বলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনার সম্ভাবনা ও বর্তমান অবস্থা
এত উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়, তবে পরমাণু ইস্যুতে একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি সম্ভব। একই সুরে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি বলেছেন, আলোচনার কাঠামো তৈরির কাজ এগোচ্ছে।
তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে—দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ জানিয়েছে, তারা ইরানে হামলার জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
যুদ্ধের হুমকি আর কূটনৈতিক তৎপরতা—দুটোই এখন পাশাপাশি চলছে। তুরস্কে হতে যাওয়া এই বৈঠক আদৌ উত্তেজনা কমানোর কোনো পথ খুলে দেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।
