গাজায় ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ ও দীর্ঘ অবরোধ ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপ যখন বাড়ছে, ঠিক তখনই বড় এক আইনি পদক্ষেপ নিল ফ্রান্স। গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগে দুই ইসরাইলি নারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, গাজা সংকটে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইউরোপে আইনি জবাবদিহির পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

ফরাসি সংবাদপত্র লে মদ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জানায়, ডানপন্থী কর্মী নিলি কুফার–নাউরি ও র‍্যাচেল তিউতুছ–এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা দুজনই ইসরাইলি নাগরিকত্বের পাশাপাশি ফরাসি নাগরিকত্বের অধিকারী। অভিযোগ অনুযায়ী, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়ার কার্যক্রমে তারা যুক্ত ছিলেন। খবরটি প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা নিউজ এজেন্সি।

নিলি কুফার–নাউরি একজন ফরাসি–ইসরাইলি আইনজীবী। তিনি ‘ইসরাইল ইজ ফরএভার’ নামের একটি দাতব্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। সংস্থাটি নিজেদের লক্ষ্য হিসেবে ফরাসিভাষী জায়নিস্ট শক্তিগুলোর সংগঠিতকরণের কথা উল্লেখ করে। অন্যদিকে র‍্যাচেল তিউতুছ ‘তসাভ ৯’ নামের একটি সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তা আটকে দেওয়ার কর্মকাণ্ডে দুজনই সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

আরব ৪৮ ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুফার–নাউরি গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এর ফলে তার ফ্রান্সে প্রবেশ করতে না পারার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফরাসি কারাগারে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তসাভ ৯–এর আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও ফ্রান্সে তদন্ত চলছে।

এদিকে, ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আইনি প্রক্রিয়ায় একাধিক ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থা আল-হাক, যাকে এর আগে ইসরাইলি দখলদার কর্তৃপক্ষ ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

সব মিলিয়ে, গাজায় যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের প্রভাব যে শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ইউরোপের আদালত পর্যন্ত পৌঁছে গেছে—ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ তা আবারও স্পষ্ট করে দিল।

 

news