আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্নির্মাণে আসছে বড় অর্থ সহায়তা। ফিলিস্তিনের এই ধ্বংসস্তূপে পরিণত ভূখণ্ডে পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার জন্য ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। আগামী বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বোর্ডের ট্রাস্টে সদস্যদের এই সহায়তার ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে দেবেন।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্প নিজেই বলেছেন—গাজা পুনর্নির্মাণে বোর্ড অব পিসের সদস্যরা ৫ বিলিয়ন ডলারের (৫০০ কোটি ডলার) বেশি অর্থ সহায়তা দেবে। এই অর্থ গাজা উপত্যকায় পুনর্গঠন ও সেখানকার বাসিন্দাদের মানবিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, সদস্য রাষ্ট্রগুলো ফিলিস্তিনি ওই ভূখণ্ডে জাতিসংঘ অনুমোদিত স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টার জন্য বোর্ড অব পিসের সদস্যরা এখন পর্যন্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রদানের অঙ্গীকার করেছে।”
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ মোতায়েনের আগে হামাসকে অবশ্যই পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তি রক্ষা করতে হবে এবং সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হতে হবে।
বোর্ড অব পিস নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যও ছিল জোরালো। তার ভাষায়, “বোর্ড অব পিস ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থায় পরিণত হবে। এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের।”
গাজা যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান, পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থা হিসেবে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোস সম্মেলনের ফাঁকে এই সংস্থার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
বোর্ডটির চেয়ারম্যান ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। শক্তিশালী নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং আরও অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনা, মিসর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মরক্কো, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
