গত ১২ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্যেও ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামী প্রজাতন্ত্রী সরকার পতনের ঝুঁকিতে নেই। তেহরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অন্তত চারজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের পতনের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলা সত্ত্বেও সাধারণ জনগণের মধ্যে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে, যা গত বছরের ডিসেম্বর-জানুয়ারির সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময়ে অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

যুদ্ধের সূত্রপাত হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে তেহরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে। সেই দিনই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ অন্তত ৪০ জন সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা। নিহত কর্মকর্তাদের মধ্যে আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস)-এর শীর্ষ কমান্ডাররা রয়েছেন।

গত ডিসেম্বরে ইরানে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছিল। প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নিহত হয়, যার মধ্য দিয়ে সরকার বিক্ষোভ দমন করে ক্ষমতায় টিকে থাকে। হামলা শুরুর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে ক্ষমতা দখলের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেছিলেন।

তবে খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের নেতৃত্বের ফাঁক পূরণ হয়েছে। আইআরজিসি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের শূন্যপদও অনেকাংশে পূরণ করা হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, ইসরায়েল চায় ইরানের সরকার দুর্বল হোক, তবে ট্রাম্প স্থলবাহিনী পাঠাতে ইচ্ছুক নন। কিছু পরিকল্পনা ছিল কুর্দি বিদ্রোহী বাহিনীকে মাঠে নামিয়ে আইআরজিসি দুর্বল করা, তবে এটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

ইরানের কুর্দি বিদ্রোহী বাহিনী মূলত ইরাকের ঘাঁটিতে অবস্থান করছে, সীমান্ত পেরিয়ে ইরানের সেনা ও আইআরজিসির ওপর হামলা চালাতে পারে। কোমালা পার্টি ও অন্যান্য কুর্দি দলের নেতা আবদুল্লাহ মোহতাবি জানিয়েছেন, লক্ষাধিক কুর্দ সেনা আইআরজিসির মোকাবিলায় প্রস্তুত।

তবে মার্কিন গোয়েন্দারা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্বিধাগ্রস্ত। কারণ কুর্দি বাহিনীর সংখ্যা, দক্ষতা ও গোলাবারুদ আইআরজিসির জন্য কার্যকর হুমকি সৃষ্টি করতে পারবে কি না—এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও চাইছেন না কুর্দি বাহিনী ইরাক থেকে ইরানে প্রবেশ করুক।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী করণীয় নিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রয়টার্সের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি।

 

news