গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পেতে রাখা জলমাইন সরানোর কাজ শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। পুরো প্রণালিটি মাইনমুক্ত করতে কত সময় লাগতে পারে, সে বিষয়ে একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের আর্মড সার্ভিস কমিটির সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেই বৈঠকে তারা জানান, হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে মাইনমুক্ত করতে প্রায় ৬ মাস সময় লাগতে পারে।

বার্তা সংস্থা এএফপি আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত। এই যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জলমাইন পেতে রাখে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)। ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন স্থানে অন্তত এক ডজনের বেশি মাইন পাতা হয়েছে।

তবে ঠিক কোন কোন জায়গায় মাইন বসানো হয়েছিল, তার নির্ভুল রেকর্ড রাখা হয়নি। ফলে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়— এই মাইনগুলো শনাক্ত করা এবং নিরাপদে অপসারণ করা।

প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

এই রুটে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে।

এর আগে, ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ ব্যর্থ হয়। এর পরদিনই ১২ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের সামরিক বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ঘোষণার প্রায় দুই ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) জানায়, হরমুজ থেকে মাইন অপসারণের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

 

news