ইরানে হামলা শুরুর দুই মাস পার হয়ে গেছে। যদিও অস্ত্রবিরতি চলছে, তবে যুদ্ধ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ পরিচালনা সংক্রান্ত সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাহী ক্ষমতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৬০ দিন সেনা মোতায়েন বা সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। এই সময়সীমা শেষ হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সেই সময় শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে এখনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সময়সীমা উপেক্ষা করা হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ফলে নতুন করে হামলার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে ইরান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে।
আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানের কিছু এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দ শোনা গেছে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে ছোট বিমান ও নজরদারি ড্রোন লক্ষ্য করে ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধের মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদনের সময়সীমা শেষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ ও কংগ্রেসের মধ্যে সাংবিধানিক বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
গত মার্চের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তখন থেকেই ৬০ দিনের গণনা শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া সময় শেষ হলে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে আইনগতভাবে দুর্বল অবস্থানে আছেন। সময়সীমা পার হয়ে গেলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে বলেও তারা দাবি করছে। সিনেট নেতা চাক শুমার রিপাবলিকানদের যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
 

news