অবশেষে প্রকাশ্যে এল যৌন অপরাধে অভিযুক্ত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের বলে দাবি করা সেই ‘আত্মহত্যার চিরকুট’। বছরখানেক ধরে সিলগালা থাকার পর ফেডারেল আদালতের নির্দেশে তা জনসমক্ষে এসেছে।

এই চিরকুটটি প্রকাশ করেছেন হোয়াইট প্লেইনস ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক কেনেথ এম কারাস। এটি এপস্টেইনের সাবেক সেলমেট নিকোলাস টারটাগ্লিওনির বিরুদ্ধে চলা একটি মামলার অংশ ছিল।

হাতে লেখা ওই চিরকুটে এপস্টেইন কী লিখেছেন? সেখানে লেখা আছে, ‘তারা আমাকে নিয়ে কয়েক মাস ধরে তদন্ত করেছে—কিন্তু কিছুই পায়নি।’ তারপর তিনি উল্লেখ করেন, তদন্তকারীরা পুরোনো অভিযোগ সামনে এনে বিষয়টি এগিয়ে নিচ্ছে।

আরও লেখা আছে, ‘বিদায় জানানোর জন্য নিজের পছন্দমতো সময় বেছে নেওয়াটা একটা বিশেষ প্রাপ্তি।’ চিরকুটে হতাশা ও মানসিক চাপের ইঙ্গিত স্পষ্ট। এক জায়গায় তিনি লেখেন, ‘তোমরা আমার কাছে কী চাও—আমি কান্নায় ভেঙে পড়ি।’ শেষের দিকে বড় অক্ষরে লেখা ‘নো ফান’ আর ‘নট ওর্থ ইট’—শেষে দাগ টানা।

কে এই টারটাগ্লিওনি? তিনি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, বর্তমানে খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার দাবি, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইনকে কারাগারের কক্ষে গলায় কাপড় প্যাঁচানো অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর তিনি এই চিরকুট পান। সে যাত্রায় এপস্টেইন বেঁচে গেলেও কয়েক সপ্তাহ পর নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন তার বয়স ৬৬ বছর।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস আদালতের কাছে নথিটি প্রকাশের আবেদন করলে বিচারক তা জনসমক্ষে আনার সিদ্ধান্ত নেন।

টারটাগ্লিওনি টেলিফোনে সংবাদমাধ্যমকে জানান, এপস্টেইনকে সেল থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর তিনি একটি গ্রাফিক নভেলের (ছবিযুক্ত উপন্যাস) ভেতর এই চিরকুট পান। তিনি বলেন, ‘বইটি পড়তে গিয়ে খুলেছিলাম, ভেতরেই পেয়ে যাই।’ চিরকুটটি লিগ্যাল প্যাড থেকে ছেঁড়া হলুদ কাগজে লেখা ছিল।

তবে এটি আসল কি না—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, চিরকুটে থাকা ‘নো ফান’ ও ‘বাস্ট আউট ক্রাইন’ শব্দদুটি এপস্টেইনের আগের কিছু ইমেইলেও পাওয়া গিয়েছিল। এমনকি মৃত্যুর সময় তার কক্ষ থেকে পাওয়া আরেকটি নোটেও লেখা ছিল ‘নো ফান’।

নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনার এপস্টেইনের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বললেও ঘটনাটি ঘিরে বিতর্ক ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এখনো থামেনি। বিশেষ করে কারাগারের নিরাপত্তা ঘাটতি ও মৃত্যুর সময়কার নানা ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার।

উল্লেখ্য, জুলাই মাসের ঘটনার পর কারা কর্মকর্তারা এপস্টেইনের গলায় লাল দাগ দেখে প্রশ্ন করলে তিনি প্রথমে দাবি করেছিলেন, টারটাগ্লিওনি তার ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তিনি নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেননি। তবে টারটাগ্লিওনি শুরু থেকেই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। পরে এপস্টেইন কারা কর্মকর্তাদের বলেন, তার সেলমেটের সঙ্গে ‘কোনো সমস্যা ছিল না’।

 

news