ঢাকা, শুক্রবার, জুন ২১, ২০২৪ | ৬ আষাঢ় ১৪৩১
Logo
logo

অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৭ মে, ২০২৩, ০৮:০৫ পিএম

অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি

অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি

অমর্ত্য সেনের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য এবারে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ নোটিশ পাঠিয়েছে আর এই নোটিশকে কেন্দ্র করে বেশ উত্তেজিত অবস্থা বিরাজ করছে বিশ্বভারতীতে। 

জমি বিতর্কে এই উচ্ছেদ নোটিসের প্রতিবাদে শনিবার থেকে শুরু হল বিশ্বভারতী বাঁচাও কমিটির অবস্থান-বিক্ষোভ। আর এতে যোগ দিলেন শিল্পী, পরিচালক, চিকিৎসক থেকে বিশ্বভারতীর অধ্যাপক, কর্মী, পড়ুয়া, প্রাক্তনী ও আশ্রমিকরা। প্রতিক্রিয়া দিয়ে চায়নি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।              
শনিবার (৬ মে) সকাল থেকে বিশ্বভারতীতে অমর্ত্য সেনের প্রতীচী বাসভবনের সামনে এক শান্তিপূর্ণ অবস্থানে বসেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাসহ একদল বাউলশিল্পী ও কলকাতার বুদ্ধিজীবী সমাজ। এদিকে রোববারও (৭ মে) এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। 

এর আগে শুক্রবার (৫ মে) ছিল মিছিল ও মানববন্ধন। আর শনিবার থেকে শুরু হল প্রতিবাদ সভা।এসময় নানা রঙে আর রেখায় প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে আসেন শিল্পী শুভাপ্রসন্ন ও যোগেন চৌধুরী। তার সঙ্গে গানে গানে সরব হন কবীর সুমন। এদিন প্রতিবাদ মঞ্চে শিল্পী, পরিচালক সহ বিশিষ্টদের সঙ্গে ছিলেন বিশ্বভারতীর অধ্যাপক, কর্মী, শিক্ষার্তীসহ  প্রাক্তন ও শ্রমিকেরাও। 

এসময় সন্ধ্যায় কবীর সুমন একটানা কবিগুরুর প্রতিবাদী রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন দেড় ঘণ্টা ব্যাপী। গানের আগে কবীর সুমন বলেন, আমি বিশ্বভারতীর মাটিকে ভালোবাসি, সম্মান করি। বিশ্বভারতীর ক্ষতি হলে তাতে কার লাভ? এটা উপাচার্যকে বুঝতে হবে। বুঝতে হবে বিশ্বভারতীর আচার্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। বিশ্বভারতী বাঁচাও কমিটির মঞ্চের পাশে আরও একটি মঞ্চ তঈরি করা হয়েছে যেখানে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেন শাসক দলের মন্ত্রী-সাংসদ-বিধায়করা।  অবশ্য এই ঘটনায় নোবেলজয়ীর পাশে দাঁড়ানোর কথা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জী । শুক্রবার মালদা থেকে ফেরার পথে ফের হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

এসময় তিনি বলেন, অমর্ত্য সেনের বাড়িতে হাত দিলে না, আমাকে তো চেনে না। আমি যা দেব না। সম্প্রতি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে তাঁর শান্তিনিকেতনের বাড়ি প্রতীচীর ১৩ ডেসিমল জমি খালি করার নির্দেশ দেয় বিশ্বভারতী। আর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি খালি না করে দিলে তাকে উচ্ছেদের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফ হতে। পরে আদালতের দ্বারস্থ হন অমর্ত্য সেন। 

এবিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গণমাধ্যমের পক্ষ হতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

এর আগে বিশ্বভারতীর কর্তৃক উচ্ছেদ মামলার কার্যক্রম গত বৃহস্পতিবার (৪ মে) কলকাতা হাইকোর্ট স্থগিত করে দিয়েছেন।

অমর্ত্য সেনকে হেনস্তার প্রতিবাদে শুরু হওয়া অবস্থান আজও চলে। সেখান থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, মঙ্গলবার এ অবস্থান শেষ হবে।

এনবিএস/ওডে/সি