ঢাকা, শুক্রবার, জুন ১৪, ২০২৪ | ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Logo
logo

দরপত্র জালিয়াতদের খোঁজ শুরু করেছে বাফুফের তদন্ত কমিটি


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৮ মে, ২০২৩, ০৪:০৫ পিএম

দরপত্র জালিয়াতদের খোঁজ শুরু করেছে বাফুফের তদন্ত কমিটি

 দরপত্র জালিয়াতদের খোঁজ শুরু করেছে বাফুফের তদন্ত কমিটি

ফিফার ৫১ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উঠে এসেছিলো বাফুফের চারটি দরপত্রে জালিয়াতির কাহিনি। ক্রীড়া সরঞ্জাম ক্রয়, ফুটবল কেনা, বিমানের টিকিট এবং ঘাস কাটা যন্ত্র ক্রয় নিয়ে যে টেন্ডার আহ্বান করেছিলো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, সেখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্য সময়ের লেনদেন নিয়ে যে অভিযোগ তুলেছে ফিফা, সেখানে শুধু সোহাগ দোষী প্রমাণিত হলেও সন্দেহের তালিকায় আছেন বাফুফের ওপরের স্তরের বেশ কয়েকজন স্টাফ। তাঁদেরও একে একে তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে। টেন্ডার জালিয়াতদের খুঁজে বের করতে গতকাল থেকে কাজ শুরু করেছে বাফুফের তদন্ত কমিটি। আট সদস্যের তদন্ত কমিটির মধ্যে পাঁচ সদস্যকে নিয়ে প্রথমবার বৈঠক করে এ কমিটি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বাফুফের সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বলেন, মূল বিষয় হলো চারটি। সেটির সঙ্গে ফিফার অনেক পর্যবেক্ষণ আছে। আমরা কাজগুলো চিহ্নিত করেছি। এ জন্য তো আমরা ৩০ কার্যদিবসে এগুলো ধাপে ধাপে করব। চারটার বাইরেও আরো বেশ কিছু বিষয় আমরা খতিয়ে দেখব।

তিনি বলেন, ফিফার অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট যে তদন্ত আছে, সেটার সাপোর্টিং সংশ্লিষ্ট যে কাগজগুলো আছে, সেগুলো দ্রুতই হাজির করার জন্য বলা হয়েছে। রোববার কিছু কাগজ আমরা পরীক্ষা শুরু করে দিয়েছি। ফিফার রিপোর্টে যে ক’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বা যাঁদের ইন্ডিকেট করা হয়েছে, তাঁদের একে একে ডেকে কথা বলব।

দরপত্রের বাইরে ফিফা ফান্ডের অপব্যবহারের অভিযোগও আছে। এসব অভিযোগে সোহাগ নিষিদ্ধ হলেও ফিফার কাছ থেকে শোকজ চিঠি পেয়েছেন ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আবু হোসেন ও ফাইন্যান্স এক্সিকিউটিভ অনুপম সরকার। জুরিখে গিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন গ্রাসরুট ম্যানেজার হাসান মাহমুদ ও কম্পিটিশন ম্যানেজার জাবের বিন আনসারী। তাঁরাও আছেন সন্দেহের তালিকায়।

মূলত সোহাগের কর্মকাণ্ডে এসব কর্মকর্তাকে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। আর এখন তদন্ত কমিটিকে এসব অভিযুক্তই ডকুমেন্ট প্রদান করবেন! তাঁরা যে একেবারে স্বচ্ছতার সঙ্গে সব ডকুমেন্ট দেবেন, এটা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এমনি কাগজগুলোতে যেটা রয়েছে, সব কিন্তু আইডেন্টিফাইড। কাগজ দেখে আমরা অবশ্যই অনুভব করতে পারব, কে সহযোগিতা করছে আর করছে না। কিন্তু সে রকম অসহযোগিতার কোনো ধরনের নিদর্শন পাই, সঙ্গে সঙ্গে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা আমরা নেব। আর যাঁরা জুরিখে গিয়েছিলেন, তাঁদের তো এখন ফিফা থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।

যাকে ফিফা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই সোহাগকে আপাতত ডাকার প্রয়োজন মনে করছেন না কাজী নাবিল, ‘বর্তমানে সাবেক সাধারণ সম্পাদককে ডাকার কোনো অবকাশ নেই। আমরা আগে বাকিদের সঙ্গে কথা বলে নিই। আর যদি প্রয়োজন মনে করি, তাহলেই সাবেক সাধারণ সম্পাদককে ডাকব।’ তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদীর বক্তব্যও শুনবেন বলে জানান নাবিল।

এনবিএস/ওডে/সি