এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৩, ০৮:০৬ পিএম

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মেয়ে লিঙ্গ বদলে পুরুষ হবেন, ঘর বেঁধেছেন সুচন্দার সঙ্গে
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর কন্যা সুচেতনা সম্প্রতি ঘর বেঁধেছেন বান্ধবী সুচন্দার সঙ্গে। থাকতে শুরু করেছেন একসঙ্গে। এর পাশাপাশিই তিনি পায়ে পা মিলিয়ে কাজ শুরু করেছেন সমাজের এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীর জন্য।
সম্প্রতি এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীর একটি কর্মশালায় তিনি অংশগ্রহণ করার পরে তাকে নিয়ে একটি লেখা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং জানা গেছে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মীরা ভট্টাচার্যের মেয়ে সুচেতনার কথা, যিনি শারীরিক ভাবে মেয়ে হয়ে জন্মালেও মননে একজন পুরুষ এবং এইবার শারীরিকভাবেও লিঙ্গ পরিবর্তন করে ‘সুচেতন’ হতে চান। এজন্য আইনি ও চিকিৎসাগত ভাবে যা যা করা প্রয়োজন, তা তিনি ইতোমধ্যেই করতে শুরু করেছেন।
সম্প্রতি শহরে আয়োজিত এলজিবিটিকিউ কর্মশালার কথা ফেসবুকে পোস্ট করেন সুপ্রভা রায়। প্রসঙ্গত, এই সুপ্রভা নিজেও অপ্রতিম থেকে সুপ্রভা হয়ে উঠেছেন লিঙ্গ পরিবর্তন করিয়ে। ‘গৌরব মাসের গল্প’ শিরোনামে সেই পোস্ট করেন তিনি, যার শুরুতেই সুচেতনা থেকে সুচেতন হওয়ার কথা জানানো হয়েছে এবং তার পরে তাতেই জানা গেছে, সুচেতনার বাবা সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থ। মা মীরা ভট্টাচার্যেরও পেসমেকার বসেছে।
ওই পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, ‘নিজেই নিজের কাছে বহু প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে সুচেতন। নিজের গল্পটা নিজের পরিসরে ধরে রাখা ছিল তার। শারীরিক লিঙ্গ পরিচয় যাই হোক না কেন, ছোটবেলা থেকেই নিজেকে ছেলে মনে করা সুচেতন পেয়েছে পারিবারিক প্রেরণা। তার বাবাই তাকে ছোটবেলায় গালে সাবান লাগিয়ে দাড়ি-গোঁফ কামিয়ে দিতেন। তাই নিজের প্রবণতায় তার বেড়ে ওঠা হয়ে উঠেছে স্বচ্ছন্দেই। শরীরে, মনে, সামাজিক প্রকাশনায় ট্রান্সম্যান রূপেই পরিচিত হয়েছে সুচেতন। কিন্তু এবার সে বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিতে তৃতীয় লিঙ্গের ও প্রান্তিক যৌনতার মানুষদের সংগ্রামে অবতীর্ণ করতে চায় নিজেকে। এলজিবিটিকিউআই এ+ কমিউনিটির মানুষদের জীবন যন্ত্রণা ও লড়াই সংগ্রামের সঙ্গে মিশতে চলেছে সুচেতন।’
সুচেতনা নিজে অবশ্য স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘আমার মা-বাবা বা পারিবারিক পরিচয়টা বড় কথা নয়। আমি এটা করছি আমার এই এলজিবিটিকিউ+ আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবেই। আমি প্রাপ্তবয়স্ক। ফলে আমি আমার জীবন সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারি। এই সিদ্ধান্তও সেই ভাবেই নিচ্ছি। দয়া করে আমার বাবা-মাকে এর মধ্যে টেনে আনবেন না।’সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি