ঢাকা, শুক্রবার, জুন ২১, ২০২৪ | ৬ আষাঢ় ১৪৩১
Logo
logo

৯ মাসে পান রপ্তানি করে আয় ২০০ কোটি টাকা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৫ এপ্রিল, ২০২৪, ০৬:০৪ পিএম

৯ মাসে পান রপ্তানি করে আয় ২০০ কোটি টাকা

৯ মাসে পান রপ্তানি করে আয় ২০০ কোটি টাকা

গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে শহরে পর্যন্ত পানের জনপ্রিয়তা রয়েছে প্রচুর। বাঙালি সংস্কৃতি আর আভিজাত্যের অন্যতম একটি অংশ পান। বিয়ে কিংবা দাওয়াত এক খিলি পান ছাড়া যেন চলেই না। বাঙালি সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করছে পান। দেশের দোকান পেরিয়ে পান যাচ্ছে দেশ ছেড়ে বিদেশে। রপ্তানিতে আয় করছে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। 

কক্সবাজারের মহেশখালী, রাজশাহী, দিনাজপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পান চাষের জন্য বিখ্যাত। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে অর্থকরী পান।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যানের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের (জুলাই-মার্চ) ৯ মাসে পান রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে এক কোটি ৮২ লাখ মার্কিন ডলার। যা দেশীয় মুদ্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ১১০ টাকা ধরে)।  

ইপিবির তথ্য বলছে, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে পান রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছিল এক কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। রপ্তানির লক্ষ্য বাড়িয়ে চলতি অর্থবছরে ঠিক করা হয় এক কোটি ৪০ লাখ ডলার। তবে গত ৯ মাসে লক্ষ্যের চেয়ে ৭৪ শতাংশ বেশি পান রপ্তানি হয়েছে। অর্থবছর শেষে পান রপ্তানির এ অংক আরো বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। ঢাকাপোস্ট 

পান রপ্তানির বিষয় জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, পান রপ্তানি আরো বাড়াতে সরকার জোর দিয়েছে। রপ্তানিকারকদের নগদ সহায়তার পাশাপাশি কোল্ড স্টোরেজের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয় সব-সময়  মনিটরিং করছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তা সমাধানের ব্যবস্থা নিচ্ছে। ফলে এবার পান রপ্তানি লক্ষ্যের চেয়ে বেশি হয়েছে। আগামীতে রপ্তানি আরো বাড়ছে বলে প্রত্যাশা করেন এ কর্মকর্তা।

পান পাতা বাজারে বিক্রি হয় পণ বা বিড়া হিসেবে। প্রতি পণে ৮০টি পাতা থাকে। স্থানীয় বাজারে প্রতি পণ পানের দাম পাওয়া যায় ৪০ থেকে ১২০ টাকা। প্রতিটি পাতা ৫০ পয়সা থেকে দেড় টাকায় বিক্রি হয়। দেশের বাজারে দুই ধরনের পানের চাহিদা থাকলেও শুধু মিষ্টি পান বিদেশে রপ্তানী হয়। রপ্তানির জন্য বাছাই করা ভালোমানের পান পাতা প্রতিটি ২ থেকে ৪ টাকা করে বা প্রতি পণ ১৬০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে সার্বিক ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। ওই সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার। অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) ৪ হাজার ৩৫৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। তবে নয় মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।