ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬ | ১ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরায়েল-যুদ্ধের পর প্রথমবার জনসমক্ষে খামেনি, পারমাণবিক চুক্তি ও যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা বাড়ছে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৬ জুলাই, ২০২৫, ১০:০৭ পিএম

ইসরায়েল-যুদ্ধের পর প্রথমবার জনসমক্ষে খামেনি, পারমাণবিক চুক্তি ও যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা বাড়ছে

ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর প্রথমবার জনসমক্ষে হাজির হলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। শনিবার (৬ জুলাই) তেহরানে আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়। মধ্য তেহরানের ইমাম খোমেনি মসজিদে শোক পালনকারী শত শত মানুষের মাঝে প্রবেশের সময় তাকে সাড়া দিতে দেখা যায়।

ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় বোমা হামলা এবং বহু সাধারণ নাগরিক ও বিজ্ঞানীর প্রাণহানির পর আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আমেরিকাও এই হামলায় ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খামেনিকে হুঁশিয়ার করে বলেন, “তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা আপাতত নেই, তবে তার অবস্থান আমাদের জানা।”

এই উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটেই খামেনি আগের ভাষণে বলেছিলেন, “আমেরিকার কাতারে ঘাঁটিতে হামলা করে আমরা তাদের মুখে চড় মেরেছি।” ট্রাম্প সেই মন্তব্যের জবাবে খামেনিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনাকে নরকে যেতে হবে।”

ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরায়েলে ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারা গেছে অন্তত ২৮ জন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও আস্থার ঘাটতি প্রকট।

এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শনে বাঁধা পাচ্ছে। ইরানের সংসদ IAEA-এর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করার আইন অনুমোদন করেছে।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরান আবারো চাপে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) মেনে চলছে এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির জনসমক্ষে উপস্থিতি এই বার্তাই দেয়—ইরান এখনো নেতৃত্বে দৃঢ় এবং প্রতিরোধে প্রস্তুত।