এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৫, ০৩:০৭ পিএম
আফগানিস্তানের মারজাহ জেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সাথে মাত্র ৬ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের বিয়ে ঠিক হয়েছিল অর্থের বিনিময়ে। তবে স্থানীয় তালেবান প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এই বিয়ে আপাতত স্থগিত হয়েছে। আমু ডট টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালেবান কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে যে মেয়েটির বয়স অন্তত ৯ বছর না হওয়া পর্যন্ত তাকে স্বামীর ঘরে পাঠানো যাবে না।
ঘটনার বিবরণ:
মেয়েটির পরিবার আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এই বিয়ে সম্বন্ধে রাজি হয়
বরপক্ষের ব্যক্তি ইতিমধ্যেই দু'জন স্ত্রী রাখেন
তালেবান প্রশাসন খবর পেয়ে বাবা ও কন্যাধনকে গ্রেপ্তার করে, তবে পরে কোনো অভিযোগ ছাড়াই মুক্তি দেয়
তালেবানের অবস্থান:
তালেবান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনায় কোনো বিবৃতি না দিলেও, তাদের স্থানীয় প্রশাসন এই বিয়ে বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। যদিও আফগানিস্তানে বাল্যবিয়ের কোনো স্পষ্ট ন্যূনতম বয়সসীমা নেই, তালেবান আমলে এটি পূর্বে নির্ধারিত ১৬ বছর বয়সসীমা বাতিল করা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট:
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশটিতে বাল্যবিয়ের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে শিশু বিয়ের হার ২৫% এবং কিশোরী বিয়ের হার ৪৫% বেড়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে:
চরম দারিদ্র্য
নারী শিক্ষার উপর নিষেধাজ্ঞা
আইনগত সুরক্ষার অভাব
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার আফগানিস্তানের এই পরিস্থিতির নিন্দা জানালেও, তালেবান সরকার এখনো বাল্যবিয়ে রোধে কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। এই ঘটনায় তালেবানের হস্তক্ষেপকে ইতিবাচক মনে করা হলেও, দেশজুড়ে শিশু অধিকার রক্ষায় আরও সুস্পষ্ট নীতির অভাব চলমান সংকটকে বাড়িয়ে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক সংকট ও নারীশিক্ষা বিঘ্নিত হওয়ায় আফগানিস্তানে বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে, যার স্থায়ী সমাধান এখনো অনিশ্চিত।