এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে আজ (৫ আগস্ট) ‘৩৬ জুলাই উদ্যাপন’ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। সরকার ঘোষিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে। বৃষ্টি সত্ত্বেও এলাকাজুড়ে লোকজনের ভিড় দেখা যাচ্ছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকালে। সময় যত গড়িয়েছে, ততই বাড়ছে জনসমাগম। বিভিন্ন বয়সের মানুষ পরিবারসহ অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
দিবসটি উপলক্ষ্যে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী ও কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। এ দুটি সংগঠন জামায়াতে ইসলামী-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
খবর অনুযায়ী, সরকারি উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজনকে এ অনুষ্ঠানে আনা হয়েছে। কয়েকটি বিশেষ ট্রেন ভাড়া করে তাদের ঢাকায় আনা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিকেল পাঁচটায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন। এ ঘোষণাপত্রে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হবে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানস্থলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের স্টল বসেছে। বই, পোস্টার ও স্মারক সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। দর্শনার্থীরা এসব স্টলে ভিড় জমাচ্ছেন।
বৃষ্টির কারণে কিছুটা অসুবিধা হলেও অনুষ্ঠান সফলভাবে চলছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। মঞ্চে সঙ্গীত, নৃত্য ও কবিতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছে।
স্থানীয় দোকানদাররা বলছেন, এত বড় জনসমাগম很久违了। খাবারের দোকান ও ফেরিওয়ালাদের ব্যবসাও ভালো চলছে।
অনেকে মনে করছেন, সরকার এ আয়োজনের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক দিনকে স্মরণ করছে। তবে বিরোধী দলগুলি এ অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার জনসমর্থন বাড়ানোর জন্য এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা একজন দর্শক বলেন, “ইতিহাস স্মরণ করা জরুরি। বৃষ্টি থাকলেও আমরা আসতে পেরে খুশি।”
আরেকজন বলেন, “সরকার যদি সত্যিই গণতন্ত্র চায়, তাহলে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান করা উচিত ছিল।”
অনুষ্ঠানটি রাত পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে। শেষে আতশবাজি ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে দিবসটির সমাপ্তি হবে।