ঢাকা, মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Logo
logo

পাকিস্তানে রক্তাক্ত হামলা: বোমা-গুলি তাণ্ডবে নিহত ১১, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ০৭ আগস্ট, ২০২৫, ১১:০৮ পিএম

পাকিস্তানে রক্তাক্ত হামলা: বোমা-গুলি তাণ্ডবে নিহত ১১, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

পাকিস্তানে ফের রক্তাক্ত সন্ত্রাসী হামলা। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশজুড়ে গুলি ও বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন, যাঁদের মধ্যে ৮ জন নিরাপত্তাকর্মী এবং ৩ জন সাধারণ মানুষ। বুধবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এই ভয়াবহ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে।

প্রথম হামলাটি হয়েছে বেলুচিস্তানের মাসটাং জেলার কির্দগাব এলাকায়। সেখানে একটি সড়কে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ির পাশে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে তিনজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় হামলার শিকার হন।

দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটেছে খাইবার পাখতুনখাওয়ার কারাক জেলার আমানকোট এলাকায়। এখানে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) এর জঙ্গিরা ফ্রন্টিয়ার কর্পস বাহিনীর একটি গাড়িতে গুলি চালায়। এতে বাহিনীর তিন সদস্য এবং গাড়ির একজন বেসামরিক চালক প্রাণ হারান।

তৃতীয় হামলাটি হয়েছে লাক্কি মারওয়াত জেলার রেলস্টেশন এলাকায়, যেখানে বন্দুকধারীরা গুলি চালিয়ে ফ্রন্টিয়ার কর্পসের আরও এক সদস্যকে হত্যা করেছে।

এছাড়া পেশোয়ারে মঙ্গলবার রাতে ঘটে চতুর্থ হামলাটি। এখানে দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা চারজন বন্দুকধারী একটি বেসরকারি গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গাড়িতে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা এবং দুজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৬৫টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

পেশোয়ার পুলিশের কর্মকর্তা মাদুস বানগাশ জানান, পুলিশ অফিসারটি বন্ধুদের সঙ্গে গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন, সেই সময় তাঁরা হামলার শিকার হন।

এই সব হামলার পর সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এর এমন ধারাবাহিক তৎপরতা দেখিয়ে দিচ্ছে, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ এখনও বড় এক হুমকি।

সরকার এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা ছাড়া উপায় নেই।