ঢাকা, শুক্রবার, মে ১, ২০২৬ | ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বড় বিতর্ক! দুই স্তরের প্রস্তাবে রাজি নয় ইংল্যান্ড, কী বলছে অস্ট্রেলিয়া?


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক     প্রকাশিত:  ০৮ আগস্ট, ২০২৫, ০১:০৮ এএম

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বড় বিতর্ক! দুই স্তরের প্রস্তাবে রাজি নয় ইংল্যান্ড, কী বলছে অস্ট্রেলিয়া?

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (WTC) নিয়ে বড় এক বিতর্কে জড়িয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। দুই স্তরের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চললেও, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB) সাফ জানিয়ে দিয়েছে—তারা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (CA) কিছু শর্তে এই পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

দুই স্তরের প্রস্তাব কী?

আইসিসি আগামী ২০২৭ সাল থেকে নতুনভাবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সাজাতে চাইছে। এজন্য গঠন করা হয়েছে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার রজার টোয়েস। মূল প্রস্তাবে বলা হয়েছে, শক্তিশালী দলগুলো থাকবে এক ডিভিশনে, আর অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোকে রাখা হবে দ্বিতীয় ডিভিশনে। এখানে প্রমোশন ও রেলিগেশন থাকবে পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে।

ECB’র স্পষ্ট আপত্তি

ইংল্যান্ড বোর্ডের চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন মনে করেন, এই মডেল বাস্তবায়ন করলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বড় দলগুলো। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যদি খারাপ সময়ে পড়ে যাই, এবং ডিভিশন টু-তে নেমে যাই, তাহলে কী অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের মতো দলের সঙ্গে আর খেলা হবে না? এটা তো মেনে নেওয়া যায় না।”

থম্পসনের মতে, বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেট এমনিতেই লড়াই করছে বিপিএল-আইপিএলসহ নানা ঘরোয়া লিগের সঙ্গে। এমন অবস্থায় দুই স্তরের ব্যবস্থায় টেস্ট ক্রিকেটের গ্রহণযোগ্যতা আরও কমে যেতে পারে।

উন্নতির পক্ষেই মত ECB’র

তিনি মনে করেন, বর্তমান চ্যাম্পিয়নশিপ মডেলটি আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে সাজালে টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতি আনা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে। রাগবির দাপট থাকলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দল দেখিয়েছে যে সমর্থন পেলে তারাও জিততে পারে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কিছু শর্তে রাজি

অন্যদিকে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিইও টড গ্রিনবার্গ বলছেন, “যদি দুই স্তরের এই মডেল ছোট দলগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, তাহলে আমরা খোলা মন নিয়ে সেটা বিবেচনা করতে রাজি।” তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যদি এর উল্টোটা হয় এবং ছোট দলগুলো আরও পিছিয়ে পড়ে, তাহলে এই প্রস্তাব সমর্থন করবেন না।

গ্রিনবার্গ বলেন, “ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোর টিকে থাকা এবং উন্নতি পুরো ফরম্যাটের জন্য জরুরি। আমরা চাই এই দলগুলো শক্তিশালী হোক।”

এখন কী হবে?

এই বিতর্ক এখনই থামছে না। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আইসিসির সিইওদের বৈঠকে এই নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। সবাই একমত যে টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচাতে কিছু পরিবর্তন দরকার। কিন্তু সেটা কীভাবে হবে—এই নিয়েই চলছে মতভেদ।