এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৮:০৯ পিএম
সুদানের পশ্চিম দারফুরে ঘটে গেছে এক ভয়াবহ বিপর্যয়। পাহাড় ধসে পুরো একটি গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। স্থানীয় বিদ্রোহী সংগঠন সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট জানিয়েছে, অন্তত এক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ভয়ঙ্কর এই ঘটনার পর অলৌকিকভাবে একজন বেঁচে গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মাররা পর্বতমালার তারাসিন গ্রামে, কয়েকদিনের টানা ভারি বৃষ্টির পর। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ভূমিধস এতটাই ভয়াবহ ছিল যে গ্রামটির সবাই প্রাণ হারিয়েছে। এমনকি ওই এলাকা, যা একসময় সাইট্রাস ফলের জন্য বিখ্যাত ছিল, সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠী জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। তবে সমস্যা হলো, দারফুর অঞ্চল যুদ্ধবিধ্বস্ত থাকায় আন্তর্জাতিক সাহায্য পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ ও সহায়তা কার্যত থেমে আছে।
দারফুরের গভর্নর মিননি মিনাওয়ি এই বিপর্যয়কে সীমান্তের বাইরেও প্রভাব ফেলবে এমন মানবিক ট্র্যাজেডি বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর কাছে তাত্ক্ষণিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এই ট্র্যাজেডি মানুষের সহ্যশক্তির বাইরে চলে গেছে।
সুদান এখন গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। সেনাবাহিনী আর আধাসামরিক আরএসএফের সংঘাতে দেশটির অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। জাতিসংঘ বলছে, এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষুধা সংকট। অন্তত এক কোটি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে।
পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে লাখো মানুষ প্রতিবেশী দেশে পালিয়েছে। রাজধানী খার্তুম থেকে চার মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, খাদ্য সংকট এখন ইতিহাসের ভয়াবহতম স্তরে পৌঁছেছে। এই অবস্থায় পাহাড় ধসের মতো দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে।