ঢাকা, মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬ | ৩ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

সেনাবাহিনীকে সহায়তার অভিযোগে টিকটকারকে প্রকাশ্যে গুলি! মালিতে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৫:১১ পিএম

সেনাবাহিনীকে সহায়তার অভিযোগে টিকটকারকে প্রকাশ্যে গুলি! মালিতে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড

উত্তর আফ্রিকার দেশ মালিতে সেনাবাহিনীকে সহায়তার অভিযোগে জনপ্রিয় নারী টিকটকার মারিয়াম সিসেকে অপহরণের পর প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা। ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় তিমবুকতু প্রদেশের টঙ্কা শহরে।

রবিবার (৯ নভেম্বর) নিহত তরুণীর পরিবার ও স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সোমবার এনডিটিভি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।

সেনাবাহিনীর সহযোগিতার অভিযোগেই নির্মম হত্যা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টঙ্কা শহরকে কেন্দ্র করে নিয়মিত ভিডিও বানাতেন মারিয়াম সিসে। টিকটকে তার ফলোয়ার সংখ্যা ছিল প্রায় ৯০ হাজার। স্থানীয় জনপ্রিয় এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, তিনি নাকি মালির সেনাবাহিনীকে জঙ্গিদের গতিবিধি জানাতেন।

এরপরই বৃহস্পতিবার তাকে অপহরণ করে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা।

তার ভাই এএফপিকে বলেন,

“আমার বোনকে জিহাদিরা আটক করে। তারা অভিযোগ করে, সে নাকি সেনাবাহিনীকে জঙ্গিদের তথ্য দিচ্ছিল। পরদিন তারা মোটরসাইকেলে করে তাকে শহরের স্বাধীনতা চত্বরে নিয়ে যায় এবং প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। আমি তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।”

স্থানীয়দের ক্ষোভ, প্রশাসনের নিন্দা

এক নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানান,

“টঙ্কার পাবলিক স্কয়ারে মারিয়াম সিসেকে জিহাদিরা হত্যা করেছে। তারা দাবি করে, সিসে সেনাবাহিনীর হয়ে ভিডিও করছিলেন।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা এটিকে “বর্বরোচিত ও অমানবিক” কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন। স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা একে “ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড” বলে নিন্দা জানান।

মালিতে আবারও জঙ্গি আতঙ্ক

সামরিক জান্তা শাসিত মালিতে ২০১২ সাল থেকে জঙ্গি বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আল-কায়েদা-সংযুক্ত গোষ্ঠী ‘ফর দ্য সাপোর্ট অব ইসলাম অ্যান্ড মুসলিমস’ JNIM তীব্র সক্রিয়তা দেখাচ্ছে।

এই গোষ্ঠীর যোদ্ধারা সম্প্রতি জ্বালানি অবরোধ আরোপ করেছে, যার ফলে সরকারকে বহু এলাকায় স্কুল বন্ধ ও ফসল সংগ্রহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

মারিয়াম সিসের নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশটিতে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি তুলেছেন, এমন নারকীয় অপরাধের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার।