ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২৬ | ১৮ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

বাঘ–গণ্ডারের ঝুঁকি পেরিয়ে দেখা মিলল ‘জীবনের মতোই বিরল’ রাফলেসিয়ার ফুল


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:১১ পিএম

বাঘ–গণ্ডারের ঝুঁকি পেরিয়ে দেখা মিলল ‘জীবনের মতোই বিরল’ রাফলেসিয়ার ফুল

সুমাত্রার রেইনফরেস্টের গভীরে হাঁটু গেড়ে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন ইন্দোনেশিয়ার সংরক্ষণবিদ সেপতিয়ান আন্দ্রিকি। কয়েক মিটার দূরেই ফুটে ছিল এক বিস্ময়—রাফলেসিয়া হ্যাসেলটি। পাহাড়সম কষ্ট আর ভয় পেরিয়ে পাওয়া সেই দৃশ্য তাকে আবেগে ভাসিয়ে দেয়।

আন্দ্রিকি বলেন, “যখন দেখলাম ফুলটি ফুটছে, আমি কান্নায় ভেঙে পড়লাম।”

স্থানীয় এক রেঞ্জারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকদের একটি দল প্রায় এক দিন ধরে গহিন জঙ্গলে ফুলটির খোঁজে ছিলেন। তাঁরা জানতেন, এটি খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব, কারণ রাফলেসিয়া হ্যাসেলটি প্রকৃতিতেই অত্যন্ত বিরল।

১৩ বছর পর এমন সুযোগ এলে আন্দ্রিকির আবেগ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “২৩ ঘণ্টা হাঁটা, পথজুড়ে বাঘের সম্ভাব্য আক্রমণের ভয়, ফোনের চার্জ ফুরিয়ে আসা—সব মিলিয়ে আমি নির্বাক হয়ে যাই। শুধু কান্নাই এসেছিল।”

এ ঘটনার পুরো মুহূর্তটি ভিডিও করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক গার্ডেনের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. ক্রিস থরোগুড। ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

এবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শেষবার এই ফুল দেখা গিয়েছিল এক দশকেরও বেশি সময় আগে। রাফলেসিয়ার বিভিন্ন প্রজাতি থাকলেও হ্যাসেলটি সবচেয়ে বিরলগুলোর একটি। এই ফুল এক মিটার পর্যন্ত চওড়া হতে পারে, ওজন ছয় কিলোগ্রামেরও বেশি হয়।

ড. থরোগুড বলেন, “খুব কম মানুষ এই ফুল দেখেছে। আমার মতে, এটি সবচেয়ে সুন্দর। সাদা পাপড়ির ওপর বড় লাল দাগ—অসাধারণ ডিজাইন। পাপড়ির উল্টো দিকেও একই নকশা।”

সংরক্ষণকাজ আর বিরল ফুলের খোঁজ নিয়েই জীবনের বড় সময় কাটিয়েছেন আন্দ্রিকি। করোনা মহামারির সময় থেকে তিনি ড. থরোগুডের সঙ্গে কাজ করছেন। ২০২১ সালে তাঁরা রাফলেসিয়ার কয়েকটি প্রজাতি খুঁজে পেলেও হ্যাসেলটি সবসময়ই অধরা থেকেছে।

এ বছরের শুরুতে পশ্চিম সুমাত্রার এক রেঞ্জার তাঁদের কাছে রাফলেসিয়া হ্যাসেলটির কুঁড়ির ছবি পাঠান। এই ফুলের কুঁড়ি পরিপক্ব হতে অনেক সময় লাগে—কখনো নয় মাস পর্যন্ত। আর ফোটা অবস্থায় থাকে মাত্র কয়েক দিন। ফলে একে দেখা সত্যিই বিরল অভিজ্ঞতা।

আরও কঠিন বিষয় হলো—ফুলটির অবস্থান এমন জায়গায়, যেখানে সুমাত্রান বাঘ ও গণ্ডারের বিচরণ সবচেয়ে বেশি। ড. থরোগুডের ভাষায়, “আমার ধারণা, মানুষের চেয়ে বাঘই এই ফুল বেশি দেখেছে।”

বিশেষ অনুমতি নিয়ে আন্দ্রিকি, থরোগুড এবং রেঞ্জার ইসওয়ান্দি বিপদসঙ্কুল সেই বনে প্রবেশ করেন। ২৩ ঘণ্টা হাঁটার পর তাঁরা ফুলটি খুঁজে পান, কিন্তু তখনো তা ফুটেনি।

আন্দ্রিকি বলেন, “মনটা ভেঙে গিয়েছিল। এত কষ্ট করলাম, অথচ ফুল খোলেনি!”

রাত ঘনিয়ে আসছিল, আর ইসওয়ান্দি সতর্ক করেন—এলাকাটি সুমাত্রান বাঘের পরিচিত আবাস। তবুও ফিরে যেতে রাজি ছিলেন না আন্দ্রিকি। তিনি অপেক্ষার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, “ফুলের কাছে গিয়ে বললাম—আমাদের এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।”

এবং অপেক্ষার ফল মিলল। চাঁদের আলোয় ধীরে ধীরে ফুটতে শুরু করে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্লভ ফুলগুলোর একটিকে।

ড. থরোগুড বলেন, “এমন মুহূর্তের তুলনা নেই। আমাদের সামনে বসে বসে ফুলটি ফুটতে দেখেছি। এটি ছিল সম্পূর্ণ জাদুকরি অভিজ্ঞতা।”

এই অভিজ্ঞতাকে নিজের সন্তানের জন্ম দেখার সঙ্গে তুলনা করেন আন্দ্রিকি।

তিনি বলেন, “রাফলেসিয়ার জীবনচক্র প্রায় নয় মাস—ঠিক মানুষের শিশুর মতো। প্রথমবার এটিকে ফোটতে দেখা মানে আমার প্রথম সন্তানের জন্ম দেখা।”

Rafflesia hasseltii, rare flower discovery, Sumatra rainforest expedition, endangered species Indonesia, conservation success story, Sumatran tiger habitat, rare bloom footage, world’s largest flower species, Oxford botanist Thorogood, Indonesian conservationist Andryki, rainforest biodiversity, rare plant research, viral conservation video, botanical exploration Sumatra, Rafflesia bloom cycle