ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬ | ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ট্রাম্পের সাথে শীর্ষ নিরাপত্তা বৈঠক! ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনা পাঠানোর অপেক্ষা? মাদুরোর চরম জবাব


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:১২ পিএম

ট্রাম্পের সাথে শীর্ষ নিরাপত্তা বৈঠক! ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনা পাঠানোর অপেক্ষা? মাদুরোর চরম জবাব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই ভেনেজুয়েলা নিয়ে সোমবার তাঁর শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। ওভাল অফিসের এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে এমন এক সময়, যখন প্রতিপক্ষ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ‘দাসত্বের শান্তি’ প্রত্যাখ্যান করে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

ট্রাম্প যেখানে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েন করেছেন, মাদক পাচার সন্দেহে নৌকাগুলোতে বোমা হামলা চালাচ্ছেন এবং ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে সবাইকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর তাৎপর্য আরও বেড়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটকে বৈঠক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করতে পারি, প্রেসিডেন্ট এই ইস্যু এবং আরও অনেক বিষয় নিয়ে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা টিমের সাথে আলোচনা করেছেন।’ তবে কারাকাসের সাথে কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কিনা, সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি লেভিট। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই বৈঠকের সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত বিবরণ দিতে যাচ্ছি না।’

তবে লেভিট ভেনেজুয়েলার মাটিতে সরাসরি মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘প্রেসিডেন্টের হাতে অনেকগুলো অপশন রয়েছে এবং আমি তাঁকেই সেগুলো নিয়ে কথা বলতে দেব।’

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট মাদুরো অভিযোগ করেছেন যে ওয়াশিংটন তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে। কারাকাসে এক বিশাল সমাবেশে তিনি হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশ্যে বলেন, ভেনেজুয়েলা কখনোই ‘দাসত্বের শান্তি’ চায় না।

মাদুরোর ভাষ্য, ‘আমরা শান্তি চাই, তবে তা হতে হবে আমাদের সার্বভৌমত্ব, সমতা ও স্বাধীনতা রেখেই। আমরা দাসত্বের শান্তি চাই না, উপনিবেশের শান্তিও চাই না।’ এই সমাবেশে পতাকা হাতে মাদুরোকে উৎসাহী সমর্থকদের সাথে মঞ্চে নাচতেও দেখা যায়।

ভেনেজুয়েলার সাথে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজসহ আরও বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন একটি তথাকথিত মাদক চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং দাবি করেছে, এই চক্রটিই মাদুরো পরিচালনা করেন।

ওয়াশিংটনের দাবি, গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করা এই সামরিক মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হল অঞ্চলটিতে মাদক পাচার বন্ধ করা। তবে কারাকাস জোর দিয়ে বলছে, এর আসল উদ্দেশ্য হল সেখানকার সরকারকে উৎখাত করা।

গত রবিবার ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তিনি মাদুরোর সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তবে এই আলাপচারিতার বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলব না যে কথা ভালো ছিল নাকি খারাপ ছিল। এটি শুধু একটা ফোনকল ছিল।’

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ও মাদুরো একটি সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মাদুরো যদি ক্ষমতা ছেড়ে দেন, তাহলে তাঁকে সাধারণ ক্ষমা প্রদানের শর্ত নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।

রিপাবলিকান সিনেটর মার্কওয়াইন মুলিন গত রবিবার সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ টক শোতে মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে রাশিয়া বা অন্য কোন দেশে নির্বাসনে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।

বিমান হামলার বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রয়াত বামপন্থী নেতা হুগো চাভেজের রাজনৈতিক উত্তরসূরি মাদুরোকে ‘কার্টেল অফ দ্য সানস’-এর প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। একই সাথে তাঁকে গ্রেপ্তার করে দিতে পারলে ৫ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

কিন্তু ভেনেজুয়েলা ও তাদের মিত্র দেশগুলো দাবি করছে, এমন কোন সংগঠনেরই অস্তিত্ব নেই। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বৈধভাবে বিজয়ী হওয়া সত্ত্বেও মাদুরোকে স্বীকৃতি দেয়নি।