ঢাকা, শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬ | ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

আকাশে ইতিহাস গড়লো তুরস্কের মানববিহীন যুদ্ধবিমান, যা ঘটলো কিজিলেলমার পরীক্ষায়!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:১২ পিএম

আকাশে ইতিহাস গড়লো তুরস্কের মানববিহীন যুদ্ধবিমান, যা ঘটলো কিজিলেলমার পরীক্ষায়!

ফাইটার জেট প্রযুক্তিতে নতুন এক মাইলফলক তৈরি করলো তুরস্ক। মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমানের সফল পরীক্ষা চালিয়ে দেশটি বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিমানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করলো। রাডার নির্দেশিকা ব্যবহার করে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি চলন্ত বিমানকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে এই যুদ্ধবিমানটি।

নাম ‘বায়রাকতার কিজিলেলমা’: তুরস্কের এই মানববিহীন যুদ্ধবিমানের নাম বায়রাকতার কিজিলেলমা  তুরস্কের বৃহৎ ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কার  এক ঘোষণায় এই সফলতার কথা জানায়।

বিশ্বে প্রথম, অনন্য সক্ষমতা: বায়কার জানিয়েছে, কিজিলেলমা সফলভাবে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (বিভিআর - BVR) ছুড়ে একটি জেট ইঞ্জিনচালিত চলন্ত লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করেছে। বিশ্বের প্রথম মানববিহীন যুদ্ধবিমান হিসেবে কিজিলেলমা এই সক্ষমতা প্রদর্শন করলো। বায়কার তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এন–সোশ্যালে এক পোস্টে জানায়, “বিশ্বে প্রথমবারের মতো কোনো মানববিহীন যুদ্ধবিমান বিভিআর দূরত্বে এয়ার–টু–এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে চলন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলো।”

দেশীয় প্রযুক্তির মুরাদ রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ‘গোকদোয়ান’: কিজিলেলমা স্থানীয়ভাবে তৈরি আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ‘গোকদোয়ান’ নিক্ষেপ করে উচ্চগতির জেটচালিত লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। লক্ষ্য শনাক্ত ও অনুসরণে ব্যবহার করা হয়েছে তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত মুরাদ অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (এইএসএ) রাডার, যা তৈরি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আসেলসান। রাডার শনাক্তকরণের পরই কিজিলেলমার ডানার নিচের পড থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়।

ঐতিহাসিক মুহূর্ত: তুরস্কের ইতিহাসে এটাই প্রথম ঘটনা, যেখানে কোনো মানববিহীন যুদ্ধবিমান স্থানীয় রাডার ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করে আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জেটচালিত উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে পারলো। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে কিজিলেলমা বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র মানববিহীন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আকাশযুদ্ধ সক্ষমতার স্বীকৃতি পেল।

নতুন যুগের সূচনা: কৃষ্ণসাগরের উপকূলীয় সিনোপ প্রদেশের আকাশে এই ঐতিহাসিক পরীক্ষাটি পরিচালিত হয়। একটি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মেরজিফন বিমান ঘাঁটি থেকে পাঁচটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কিজিলেলমার সঙ্গে একসঙ্গে উড্ডয়ন করছে। মনুষ্যচালিত ও মানববিহীন প্ল্যাটফর্মের এই যৌথ মিশন আকাশযুদ্ধের নতুন ধারণা তুলে ধরেছে। বায়কারের চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা সেলচুক বায়রাকতার এক ভিডিওতে বলেন, “আজ উড্ডয়ন-ইতিহাসের এক নতুন যুগের দ্বার উম্মোচন করেছে বায়রাকতার।”

কিজিলেলমার বিশেষত্ব: বায়কারের ড্রোন–উৎপাদন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সফলতার অংশ এই কিজিলেলমা। কম রাডার সিগনেচার ও উন্নত সেন্সর প্রযুক্তির কারণে এটি দূর থেকে শত্রু উড়োজাহাজ শনাক্ত করতে সক্ষম, অথচ রাডারে সহজে ধরা পড়ে না।