ঢাকা, শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬ | ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ভারতে নতুন স্মার্টফোনে সরকারি অ্যাপ বাধ্যতামূলক—মুছতে না পারায় ব্যবহারকারীদের তীব্র ক্ষোভ 


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:১২ পিএম

ভারতে নতুন স্মার্টফোনে সরকারি অ্যাপ বাধ্যতামূলক—মুছতে না পারায় ব্যবহারকারীদের তীব্র ক্ষোভ 

ভারতে বাজারে আসা সব নতুন স্মার্টফোনে ‘সঞ্চার সাথি’ নামের একটি সরকারি অ্যাপ জোর করে ঢোকানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সবচেয়ে বড় আপত্তি—অ্যাপটি ফোন থেকে ডিলিট বা ডিসেবল করা যাবে না। অ্যাপল, ভিভোসহ সব নির্মাতাকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই নিয়ম মানতেই হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। এর পরই শুরু হয়েছে নজরদারির আশঙ্কা ও ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ।

ভারতের টেলিকম বিভাগ বলছে, ‘সঞ্চার সাথি’ অ্যাপ চুরি বা হারানো ফোন ট্র্যাক করতে, ব্লক করতে এবং ব্যবহারকারীর নামে থাকা ভুয়া মোবাইল সংযোগ শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। আগে অ্যাপটি ইচ্ছা হলে ডাউনলোড করা যেত। কিন্তু নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে সব নতুন ফোনেই এটি ডিফল্টভাবে প্রি-লোড থাকবে এবং কোনোভাবেই ‘সীমিত বা নিষ্ক্রিয়’ করা যাবে না।

নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ‘ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন’ (আইএফএফ) এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘গোপনীয়তায় স্থায়ী হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা জানায়, নির্দেশনা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।

বিতর্ক আরও জোরালো হয় যখন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া দাবি করেন—ব্যবহারকারীরা নাকি চাইলে অ্যাপটি “সক্রিয় বা মুছতে পারবেন”! কিন্তু তিনি ব্যাখ্যা করেননি কেন নির্দেশনায় পরিষ্কারভাবে বলা আছে—অ্যাপ নিষ্ক্রিয় বা সীমিত করা যাবে না। সরকারও এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি, ফলে বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ক্ষোভ ছড়িয়েছে দ্রুতই। অভিযোগ—অ্যাপটি ফোনের ক্যামেরা, কল লগ, এসএমএস, ফাইল স্টোরেজসহ ব্যাপক অ্যাকসেস চায়।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টার পয়েন্টের তরুণ পাঠক বলেন—
“ইউরোপের ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট ব্যবহারকারীকে যেকোনো অ্যাপ মুছতে দেয়। আর আমরা উল্টো পথে হাঁটছি।”

যদিও নির্মাতারা প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—অ্যাপলসহ চীনা ব্র্যান্ডগুলো শিল্প সংগঠনের মাধ্যমে সরকারের ওপর নীরবে চাপ দেবে। ভারতীয় বাজারে ভিভো, অপ্পো, শাওমি—এই তিন কোম্পানিই অর্ধেকের বেশি ভাগ দখলে রেখেছে। অন্যদিকে অ্যাপল আগেই অ্যান্টিট্রাস্ট তদন্তে জর্জরিত, ফলে তাদের জন্য বিষয়টি আরও সংবেদনশীল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপল এই নিয়ম মানতে আগ্রহী নয়। যদিও তারা এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষমেশ পুরো বিষয়টি আদালতে গড়াতে পারে।