ঢাকা, মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬ | ৩ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও পালাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা! গাজা-পশ্চিম তীরে হামলার বিভীষিকা, জাতিসংঘের ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা 


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:১২ পিএম

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও পালাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা! গাজা-পশ্চিম তীরে হামলার বিভীষিকা, জাতিসংঘের ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নিউইয়র্ক: গাজা অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ত্রাণ কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং গাজা ও পশ্চিম তীর উভয় স্থানেই ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে। বিশেষভাবে শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে সংস্থাটি।

পশ্চিম তীরের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি: জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক মঙ্গলবার জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, তুবাস ও জেনিনের উত্তরাঞ্চলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে।

এই হামলার কারণে স্থানীয় অধিবাসীরা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রও বন্ধ হয়ে গেছে। ডুজারিক আরও জানান, গত দুই দিনে প্রায় দুই ডজন ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।

শীতকাল নতুন চ্যালেঞ্জ: শীতকাল শরণার্থীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। ডুজারিক জানান, গত দুই মাসে অবরুদ্ধ অঞ্চলের শিশুদের জন্য জুতা, কাপড়, কম্বল ও তোয়ালে বিতরণ করা হয়েছে। নভেম্বরের শেষ ১০ দিনে ১৬০টি তাঁবু বিতরণ করা হয়েছে, যা মানবিক চাহিদার তুলনায় সামান্য।

সংকটাপন্ন স্বাস্থ্য পরিস্থিতি: গাজার স্বাস্থ্য পরিস্থিতিও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি দল গাজা থেকে ১৮ জন রোগী ও তাদের ৫৪ জন সঙ্গীকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছে। তবে এখনও প্রায় ১৬,৫০০ রোগীর জন্য জীবনরক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। ডুজারিক সীমান্ত ও করিডর খুলে দেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, গাজার বাইরে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক জরুরি মেডিক্যাল দলগুলোকে গাজার মধ্যে প্রবেশের জন্য বাধাহীন সুযোগ দেওয়া আবশ্যক।

হামলা অব্যাহত: ডুজারিক সতর্ক করে বলেছেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার পাঁচটি গভর্নরেটে বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে,” যা সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

জাতিসংঘের অগ্রাধিকার: জাতিসংঘ বারবার আহ্বান জানাচ্ছে যে, মানবিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া, নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সংস্থাটির প্রধান অগ্রাধিকার। ডুজারিকের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, গাজার অবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে।