এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৪:১২ পিএম

জম্মু-কাশ্মীরের তরুণ পেসার উমরান মালিক চোট কাটিয়ে সাইয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছেন। লক্ষ্যও স্পষ্ট—আবার ভারত দলে ফেরা। উমরান বলছেন, স্বাভাবিক গতি ১৫০ কিমি/ঘণ্টা স্পিডেই উইকেট নিতে পারলে আবার জাতীয় দলে জায়গা ফিরে পাবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।
২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর থেকে ভারতের হয়ে আর মাঠে নামেননি উমরান। এখন পর্যন্ত ১০ ওয়ানডে ও ৮ টি-টোয়েন্টিতে তাঁর উইকেট ২৪টি। চোট ও ফর্মহীনতার কারণে তিনি এখন নির্বাচকদের মূল তালিকাতো দূরে, ব্যাকআপ তালিকাতেও নেই।
“১৫০ কিমি যারা বল করে তারা স্ট্রাইক নয়, অ্যাটাকিং বোলার”—উমরান মালিক
উমরানের মতে, যারা ১৫০ কিমি গতিতে বল করেন, তারা ‘স্ট্রাইক বোলার’ নন, বরং ‘অ্যাটাকিং বোলার’। রান খরচ হলেও তারা উইকেট এনে দিতে পারে।
তিনি বলেন,
“একটা কথা বলে রাখি—১৫০ গতিতে যারা বল করে, তারা স্ট্রাইক নয়; তারা অ্যাটাকিং বোলার। চার ওভারে ৩০ রান খরচ হতেই পারে, কিন্তু উইকেটও দেবে। দ্রুতগতির বোলারের কাজই এমন।”
“১৫০ কিমিতে বল করা রাজাদের কাজ”—উমরানের আত্মবিশ্বাস
উমরান আরও বলেন, ১৫০ কিমি গতিতে বল করা সাহসের কাজ, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। এটা স্বাভাবিক প্রতিভা, প্রশিক্ষণ দিয়ে হুট করেই অর্জন করা যায় না।
“যে বোলার ১৫০ কিমি গতিতে বল করে, সে জানে সে রাজা। সবাই পারে না। সাহস লাগে। আমি পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত এটা করছি।”
তিনি আরও যোগ করেন—
“১৫০ কিমি বল করা একটা আর্ট। আপনি ১৩৭ থেকে হঠাৎ ১৪৫-এ যেতে পারবেন না। এটা পুরোপুরি ন্যাচারাল। ট্রেনিং, খাবার, বিশ্রাম—সব ঠিক রাখতে হবে।”
উমরানের ভাষায়,
“স্পিড আমার ন্যাচারাল শক্তি। এটা ছাড়ব কেন? ফিটনেস ধরে রাখতে দৌড়, কার্ডিও সবই করতে হয়। কোনো বিশেষ ডায়েট নেই—পেসই আমার শক্তি।”
আইপিএল ২০২৬-এর আগে মুশতাক আলি ট্রফিতে উমরানের ছন্দে ফেরা
আইপিএল ২০২৬-এর জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) তাঁকে রিটেইন করেছে। আর সেই আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন উমরান।
সাইয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে রাউন্ড-২ ম্যাচে উত্তর প্রদেশের বিপক্ষে ৩/৩৭, তার আগের ম্যাচে মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ২/২৪—দুই ম্যাচেই ছিলেন দুর্দান্ত।
এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে তাঁর উইকেট ৬টি, গড় ২২.৫০, ইকোনমি ৯.৬৪।
টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে মোট ৫৮ ম্যাচে ৭১ উইকেট, গড় ২৪.৭৭, ইকোনমি ৯.১৪।
আইপিএল ডেবিউ ২০২১ সালে। ২০২২ মৌসুমে ২২ উইকেট তুলে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। তবে পরের মৌসুমগুলোতে ধার কমে যায়; ২০২৪ সালে খেলেছিলেন মাত্র একটি ম্যাচ। পরে কেকেআরে আসলেও একাদশে সুযোগ পাননি।
এবার নতুন করে শুরু করতে চান উমরান—১৫০ কিমির সেই ভয়ংকর গতি নিয়েই।