এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:১২ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ওয়াশিংটন/তেগুসিগালপা: যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে সম্পূর্ণ ক্ষমা করে দেওয়ায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কারা কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
কারাগার থেকে মুক্তি: ফেডারেল কারাগারের রেকর্ড অনুযায়ী, হার্নান্দেজ গত সোমবার পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ইউএসপি হেজেলটন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাকে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র ও নিজের কাছে মেশিনগান রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল।
সাবেক প্রেসিডেন্টের পরিচিতি: ন্যাশনাল পার্টির সদস্য হার্নান্দেজ ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সহিংস মাদক চোরাচালানের ষড়যন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রে শত শত টন কোকেন পাচারে সহযোগিতার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে ২০২২ সালের এপ্রিলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ট্রাম্পের দাবি ও স্ত্রীর কৃতজ্ঞতা: হার্নান্দেজকে ক্ষমা করার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন যে, হার্নান্দেজের সঙ্গে "রূঢ় ও অন্যায় আচরণ" করা হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার হার্নান্দেজের স্ত্রী আনা গার্সিয়া দে হার্নান্দেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, “আমার স্বামী এখন একজন মুক্ত মানুষ।”
অভিযোগ ছিল ভয়ঙ্কর: বিচার চলাকালে নিউইয়র্কের কৌঁসুলিরা বলেছিলেন, হার্নান্দেজ হন্ডুরাসকে ‘মাদক চক্রের নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রের মতো’ পরিচালনা করেছেন। তিনি চোরাচালানিদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিনিময়ে লাখ লাখ ডলার ঘুষ নিয়েছেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত হার্নান্দেজকে ৮০ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধের নির্দেশও দিয়েছিল।
বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ: ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজের ভেতর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হার্নান্দেজকে ক্ষমা করে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি দাবি করেন, হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন সাজানো তদন্ত করেছে। ট্রাম্পের মন্তব্য, "তিনি (হার্নান্দেজ) দেশটির (হন্ডুরাস) প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আর এ কারণেই মূলত তারা তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়ে দিয়েছে।"
হন্ডুরাসের নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা: হার্নান্দেজকে এমন সময়ে মুক্তি দেওয়া হলো, যখন কিনা হন্ডুরাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নিয়ে চরম উত্তেজনা চলছে।
গত রবিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়। ভোট গণনায় দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
৬৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপন্থী লিবারেল পার্টির নেতা সালভাদর নাসরাল্লা রক্ষণশীল প্রার্থী নাসরি আসফুরার (ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী) চেয়ে সামান্য এগিয়ে আছেন। নাসরাল্লা পেয়েছেন ৪০.১৩ শতাংশ ভোট, আর আসফুরা পেয়েছেন ৩৯.৭১ শতাংশ।
নির্বাচন কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে দ্রুত ভোট গণনার ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা জানিয়েছে। ট্রাম্প এই পরিস্থিতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি তারা ফলাফল পরিবর্তন করার চেষ্টা করে, তবে তাদের "কঠিন পরিণতি" হবে।