এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:১২ পিএম

১৯৮৬ বিশ্বকাপ মানেই ডিয়েগো ম্যারাডোনা, 'হ্যান্ড অব গড', শতাব্দীর সেরা গোল, আর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে ট্রফি উঁচিয়ে ধরা—যেন ফুটবল ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা মুহূর্ত। কিন্তু এই গৌরবগাথার আড়ালে লুকিয়ে আছে আরেকটি মজার ও অবিশ্বাস্য গল্প। সেই গল্পের নায়ক হল ফুটপাতের নকল পণ্যের বাজার থেকে কেনা একটি নীল জার্সি, যা আজ ইতিহাসের অংশ।
মেক্সিকোতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ঠিক আগে হঠাৎই ফিফা জানায়, ইংল্যান্ড সাদা জার্সি পরবে, তাই আর্জেন্টিনাকে গাঢ় রঙের বিকল্প জার্সি পড়তে হবে।
সেই মুহূর্তেই সমস্যা দেখা দেয়। আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় জার্সি ছিল মোটা সুতি কাপড়ের তৈরি, যা মেক্সিকোর প্রচণ্ড গরমে খেলার জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়। কোচ কার্লোস বিলার্দো বুঝতে পারেন, এই জার্সি পরে খেললে দলের জন্য বড় ধরনের সমস্যা হবে। কিন্তু হাতে তখন আর কোনো বিকল্প নেই!
তাই, ম্যাচের আগের দিন বিকেলেই ছুটতে হয় মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত 'তেপিতো' এলাকায়, যাকে সবাই 'নকল পণ্যের বাজার' বলে জানত। সেই বাজারের ফুটপাতের দোকান থেকে কিনে আনা হয় হালকা ও বাতাস চলাচল করতে পারে এমন নীল রঙের কয়েক সেট 'রেপ্লিকা' বা নকল জার্সি।
তবে সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়—সেই জার্সিগুলোতে আর্জেন্টিনার ব্যাজ বা খেলোয়াড়দের নম্বর কিছুই ছিল না! তাই টিম হোটেলে ফিরে শুরু হয় তড়িঘড়ি প্রস্তুতি। কেউ ব্যাজ সেলাই করছে, কেউ নম্বর লাগাচ্ছে—টানা কাজ চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। ভোরবেলা জার্সিগুলো দেখে ম্যারাডোনা হাসতে হাসতে বললেন, "এটা তো খুব সুন্দর!"
পরের দিন সেই ফুটপাত থেকে কেনা নকল জার্সি গায়েই মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। আর সেই জার্সিতেই জন্ম হয় ইতিহাস—ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' গোল এবং 'শতাব্দীর সেরা গোল'। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছায় দলটি। এরপর ফাইনালে জার্মানিকেও ৩-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় 'আলবিসেলেস্তে'রা।
মজার ব্যাপার হলো, তেপিতো বাজার থেকে কেনা সেই নীল জার্সিগুলো আর্জেন্টিনা আর কখনোই ব্যবহার করেনি। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ম্যারাডোনা যে জার্সিটি পরেছিলেন, সেটি ২০২২ সালে নিলামে বিক্রি হয় রেকর্ড ৯৩ লাখ ডলারে!