ঢাকা, শুক্রবার, জানুয়ারী ২, ২০২৬ | ১৯ পৌষ ১৪৩২
Logo
logo

এডেন বিমানবন্দরে সৌদি প্রতিনিধি অবতরণে বাধা, ইয়েমেন–সৌদি–আমিরাত উত্তেজনা তুঙ্গে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

এডেন বিমানবন্দরে সৌদি প্রতিনিধি অবতরণে বাধা, ইয়েমেন–সৌদি–আমিরাত উত্তেজনা তুঙ্গে

সৌদি আরবের একজন প্রতিনিধিকে বহনকারী বিমান ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পায়নি। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দেশটিতে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত এই অভিযোগ জানান। এর ফলে ইয়েমেনকে ঘিরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের জানিয়েছেন, এডেন বিমানবন্দরে সৌদি প্রতিনিধিকে বহনকারী বিমান অবতরণে অনুমতি দেননি ইয়েমেনের আমিরাত-সমর্থিত দক্ষিণ ইয়েমেন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী (এসটিসি) নেতা আইদারুস আল-যুবাইদি।

সৌদি রাষ্ট্রদূতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এসটিসির সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে রিয়াদ থেকে। তবে আইদারুস আল-যুবাইদির একগুঁয়ে অবস্থান ও ধারাবাহিক প্রত্যাখ্যানের কারণে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার এডেন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বিমান চলাচল সংক্রান্ত জটিলতা এবং রাতভর ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কতদিন চলবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ফলে অনেক যাত্রী অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এডেন বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিতের ঘটনা ইয়েমেনে সৌদি আরব ও আমিরাত-সমর্থিত শক্তিগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা মতবিরোধেরই প্রতিফলন। এটি দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এসটিসি-কে সমর্থন করছে। এই গোষ্ঠী গত মাসে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার থেকে দক্ষিণ ইয়েমেনের কিছু অংশ দখল করেছে। সৌদি আরব, যা এই সরকারের সমর্থক, এটি হুমকি হিসেবে দেখছে। এসটিসি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে, আমিরাতের সেনাদের ইয়েমেন ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়েছে, এবং ইয়েমেন সরকার আমিরাতের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি বাতিল করেছে। এসব ঘটনায় দু’দেশের মধ্যে দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।