ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ৮, ২০২৬ | ২৫ পৌষ ১৪৩২
Logo
logo

শান্তিচুক্তি ভেঙে গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, কিশোরসহ তিনজন নিহত ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

শান্তিচুক্তি ভেঙে গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, কিশোরসহ তিনজন নিহত ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ

মার্কিন মধ্যস্থতায় গত অক্টোবর মাসে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তিকে কার্যত উপেক্ষা করে গাজা উপত্যকায় আবারও সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সর্বশেষ হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর এবং এক মৎস্যজীবী।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (৪ জানুয়ারি) গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসে পৃথক বিমান ও স্থল হামলায় এসব প্রাণহানি ঘটে। একই দিনে মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের আশপাশে চালানো হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে গাজা শহরের টুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ধারাবাহিকভাবে আবাসিক ভবন ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজার পূর্বাঞ্চলে ড্রোন ব্যবহার করে বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় ভূগর্ভস্থ ও ভূ-পৃষ্ঠের একাধিক সুড়ঙ্গ তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল। একই সঙ্গে শুজায়া ও জেইতুন এলাকাতেও আর্টিলারি হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

অন্যদিকে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৩৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ২৬৪ জন আহত হয়েছেন। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরও ৪২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ায় চুক্তিটির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজায় মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ইসরায়েল গাজা সীমান্তে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার বড় একটি অংশ আটকে রেখেছে। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, গাজায় সহায়তার কোনো ঘাটতি নেই। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির সংকট দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে।