ঢাকা, শনিবার, জানুয়ারী ১০, ২০২৬ | ২৭ পৌষ ১৪৩২
Logo
logo

মোস্তাফিজকে ফেরাতে নাকি বিসিসিআইয়ের ফোন! গুঞ্জনের সত্যতা নিয়ে যা জানাল বিসিবি


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:০১ পিএম

মোস্তাফিজকে ফেরাতে নাকি বিসিসিআইয়ের ফোন! গুঞ্জনের সত্যতা নিয়ে যা জানাল বিসিবি

এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার বিকেল গড়াতেই সিলেটে ছড়িয়ে পড়ে নতুন গুঞ্জন। খবরের সারকথা—ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নাকি নিজেদের আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমানকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে আইপিএলে ফেরাতে চাইছে তারা। দেশের একটি শীর্ষ সংবাদপত্রে এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।

গুঞ্জনের মূল কথা ছিল—বিসিসিআইয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাকি বিসিবি সভাপতিকে ফোন করে মোস্তাফিজকে কঠোর ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে খেলানোর প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিসিবি সভাপতি নাকি বলেন, এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে এবং ফোন কেটে দেন।

এতে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি বিসিসিআইয়ের দেরিতে হলেও বোধোদয় হয়েছে? আগে যে নিজ দেশের হিন্দু উগ্রবাদী সংগঠনের হুমকি ও দাবির মুখে মোস্তাফিজকে আইপিএল না খেলানোর নির্দেশ দিয়েছিল, সেটার প্রায়শ্চিত্ত করতেই কি এই চেষ্টা?

অনেকেই এমনটাই ধরে নিয়েছেন। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোনো দায়িত্বশীল সূত্র থেকেই বিসিসিআই কর্তার ফোনের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।

এ নিয়ে বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন, একাধিক পরিচালক এবং শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেও ফোন পাওয়ার সত্যতা মেলেনি। কেউই স্বীকার করেননি যে বিসিসিআই থেকে এমন কোনো ফোন এসেছিল।

বিসিবির সিইও জাগো নিউজকে বলেন,
“বিসিসিআই থেকে কেউ ফোন করেছিলেন কি না, আমি জানি না। আমার জানামতে এমন কোনো ফোন আসেনি।”

একই কথা বলেন বিসিবির তিন পরিচালক—নাজমুল আবেদিন ফাহিম, ইফতিখার রহমান ও আমজাদ হোসেন। তাদের বক্তব্য,
“এমন কোনো ফোন এলে কোনো না কোনোভাবে জানতাম। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতো। কিন্তু এমন কিছু আমরা শুনিনি।”

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনিও স্পষ্টভাবে বিষয়টি অস্বীকার করেন। তার এক কথার জবাব—“ফলস (মিথ্যা)।”

এদিকে বৃহস্পতিবার বোর্ডের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার পক্ষে নিজেদের অবস্থান আইসিসির কাছে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছে বাংলাদেশ। এখন আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে আলোচনা চলবে। আইসিসি প্রশ্ন তুলবে, বাংলাদেশ ব্যাখ্যা দেবে—এভাবেই কথাবার্তা এগোবে। সব দিক বিবেচনার পর আইসিসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রক্রিয়ায় আরও এক-দুদিন সময় লাগতে পারে।