এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:০১ পিএম

সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোয় শুক্রবার হঠাৎ করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সেনাবাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে চলা প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পরই এ সিদ্ধান্ত এলো। টানা সহিংসতায় শত শত পরিবারসহ হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইসলামপন্থী কর্তৃপক্ষ ক্ষমতায় আসার এক বছরের একটু বেশি সময়ের মধ্যেই এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার থেকে আলেপ্পোয় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায় সরকারি বাহিনী। কে আগে লড়াই শুরু করেছে, তা নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কুর্দিদের প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামো নতুন সরকারের সঙ্গে একীভূত করার চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। বর্তমানে এসডিএফ সিরিয়ার তেলসমৃদ্ধ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০১৯ সালে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর ভূখণ্ডগত পরাজয়ে এই বাহিনীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আবাসিক এলাকায় নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এড়াতে আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ, আশরাফিয়েহ ও বানি জেইদ এলাকায় ভোর ৩টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার মধ্যে কুর্দি যোদ্ধাদের এসব এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতির মূল উদ্দেশ্য হলো সংঘর্ষে বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের শান্ত পরিবেশে ঘরে ফিরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া।
এদিকে আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আলঘারিব রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানাকে জানিয়েছেন, তিনি আশরাফিয়েহ এলাকায় গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
তবে সরকারি যুদ্ধবিরতির ঘোষণার বিষয়ে কুর্দি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।