এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

গাজায় এখনও যুদ্ধবিরতি থাকলেও আসছে মার্চ মাসে নতুন করে ব্যাপক সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল! তাদের লক্ষ্য, বর্তমানে যেখানে 'ইয়েলো লাইন' বা সীমানা রয়েছে, তাকে আরও গভীরে গাজার দিকে ঠেলে দিয়ে আরও ভূখণ্ড দখল করা।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন বলছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই অভিযানের ছক কষছেন। হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণে ব্যর্থতার কথা বলে এই আক্রমণের অজুহাত দেখানো হতে পারে। গত অক্টোবরে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েল ইতিমধ্যেই গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ, অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। মার্চের নতুন অভিযানটি মূলত গাজা সিটি এলাকাকে কেন্দ্র করেই হতে পারে, যার ফলে তাদের দখলকৃত এলাকা আরও বাড়বে।
এদিকে, হামাস ইতিমধ্যেই গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি টেকনোক্র্যাট কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ এনেছে এবং বলেছে, ইসরায়েল গাজার জন্য প্রস্তাবিত মার্কিন পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে। এই পরিকল্পনায় গাজায় একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী গঠনের কথাও আছে।
কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ওই বাহিনীতে তুরস্কের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করায়, আজারবাইজান, পাকিস্তান বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলো সৈন্য পাঠাতে উৎসাহ হারাচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক খবর হলো, যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় হামলা থামেনি। গত তিন মাসে ইসরায়েল ১,২০০ বার যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যাতে প্রাণ গেছে অন্তত ৪৩৯ ফিলিস্তিনির। হামাস এই লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এখন দেখার বিষয়, মার্চ আসলে ইসরায়েল তার নতুন অভিযান শুরু করে কি না।