এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

ইরানে চলমান অস্থিরতার পেছনে ইসরায়েলের একটি সুসংগঠিত ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধান। অভিযোগ করা হয়েছে, এই নেটওয়ার্কের মূল লক্ষ্য ইরানিদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করা এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর জন্য জনমত গঠন করা।
কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংস্থা সিটিজেন ল্যাব এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কার ও হারেৎজ-এর যৌথ অনুসন্ধানে এই গোপন অভিযানের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সরকারের পরোক্ষ অর্থায়নে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারস্য ভাষায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য ইরানিদের মধ্যে রাজতন্ত্রের প্রতি সমর্থন জাগানো এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা। বিশেষ করে গত বছর তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে ইসরায়েলি হামলার সময় এই নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল। হামলার খবর প্রকাশের আগেই ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা ‘অ্যাভাটার’ ব্যবহার করে বিস্ফোরণের খবর এবং ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
শুধু তাই নয়, নেটওয়ার্ক থেকে সাধারণ মানুষকে ব্যাংক লুট করা বা জেল ভেঙে বন্দিদের মুক্ত করার মতো উসকানিমূলক বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালে রেজা পাহলভির ইসরায়েল সফর এই প্রচারণায় নতুন গতি আনে। সফরের সময় ইসরায়েলের বিজ্ঞানমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল তাকে প্রকাশ্যে ‘ইরানের যুবরাজ’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।
সিটিজেন ল্যাব জানায়, এই প্রচারণার সময়সূচির সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের মিল রয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পুরো কার্যক্রমটি ইসরায়েল সরকার বা তাদের নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, রেজা পাহলভি বিদেশে গণতন্ত্রের কথা বললেও ইরানিদের একটি বড় অংশ তাকে তার বাবার স্বৈরাচারী শাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবেই দেখে। তেল-আবিবভিত্তিক গবেষক রাজ জিম্মতের মতে, ইসরায়েলের প্রকাশ্য সমর্থন উল্টো খামেনি সরকারের সেই বয়ানকেই আরও শক্তিশালী করছে—যেখানে বলা হয়, বিদেশি শক্তিগুলো ইরানকে আবার তাদের অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।
গবেষকরা বলেন, গণতান্ত্রিক দেশগুলোর উচিত এমন অনৈতিক ডিজিটাল প্রচারণা থেকে বিরত থাকা। নচেৎ এটি দীর্ঘমেয়াদে শুধু ইরান নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্যই বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।