ঢাকা, মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ | ৩০ পৌষ ১৪৩২
Logo
logo

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ডাকে ওয়াশিংটনে জরুরি বৈঠকে বসছেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ডাকে ওয়াশিংটনে জরুরি বৈঠকে বসছেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে জরুরি বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটনে ডেকে পাঠিয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি হওয়ার কথা।

সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণের পর ভেনিজুয়েলার রাজনীতিতে যিনি কিছুটা কোণঠাসা হয়েছিলেন, সেই মাচাদোর এই সফরকে তার ‘রাজকীয় প্রত্যাবর্তন’ বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় কারাকাসের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাথাব্যথা বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সরকারের ওপর চাপ বাড়াতেই ট্রাম্প এই ‘বিকল্প কার্ড’ ব্যবহার করতে যাচ্ছেন।

গত ৩ জানুয়ারি মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর দেলসি রদ্রিগেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন এবং ট্রাম্প প্রশাসন তাকে সমর্থন জানায়। কিন্তু গত কয়েক দিনে নাটকীয় পালাবদল দেখা যায়। স্বেচ্ছানির্বাসিত মাচাদো জানান, তিনি তার নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের সাথে ভাগ করে নিতে চান। এরপরই ওয়াশিংটন থেকে তার জন্য আমন্ত্রণ আসে।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার দাবি, ট্রাম্প রদ্রিগেজের সাথে কাজ চালিয়ে গেলেও তাকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বিশেষ করে ভেনিজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত নিয়ে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গেলে রদ্রিগেজকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে।

মাচাদোর বৈঠকের খবর প্রকাশের পরই চাপে পড়ে কারাকাস প্রশাসন নতুন করে ১১৬ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দেয়। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর আটকদের মুক্ত করতে আগে থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ ছিল। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ জন মুক্তিলাভ করেছেন, যদিও আটক ছিল ৮০০ থেকে ১,২০০ জন। মাচাদোর সফরকে সামনে রেখে এই মুক্তি কারাকাসের ‘তুষ্টিকরণ কৌশল’ বলে মনে করা হচ্ছে।

সাত বছর পর কারাকাসে মার্কিন দূতাবাস আবার খোলা নিয়েও দুইপক্ষের আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি রদ্রিগেজ প্রশাসনের সাথে ‘খুব ভালোভাবেই’ কাজ করছেন। কিন্তু মাচাদোর সাথে যোগাযোগ এই ইঙ্গিতই দেয় যে, তিনি রদ্রিগেজকে পুরোপুরি বিশ্বাস করছেন না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রদ্রিগেজ প্রশাসন যদি মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে ট্রাম্পের হাতের কাছে বিকল্প হিসেবে মাচাদো রয়েছেন। বৃহস্পতিবারের বৈঠকের ফলাফলই ভেনিজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দিক নির্ধারণ করবে।