ঢাকা, মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ | ৩০ পৌষ ১৪৩২
Logo
logo

নির্বাচনের পর বদলে যেতে পারে নিরাপত্তা সমীকরণ, পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান আলোচনায় তোলপাড়


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

নির্বাচনের পর বদলে যেতে পারে নিরাপত্তা সমীকরণ, পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান আলোচনায় তোলপাড়

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে নিয়ে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

গত কয়েক মাসে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক এবং পাকিস্তান-সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই যোগাযোগগুলো আর নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আঞ্চলিক রাজনীতিতে যে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে, তার অংশ হিসেবেই এই সম্ভাব্য সামরিক জোটকে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটে যোগ দিলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামো নতুন রূপ পেতে পারে।

এই জোটের ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে। চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশের ওপর হামলাকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে—যা অনেকটা ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির আদলে তৈরি।

২০২৬ সালের জানুয়ারির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কও এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছে। পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র, তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী, আর সৌদি আরবের আছে বিপুল আর্থিক শক্তি। এই তিন দেশের সমন্বয়কে অনেকেই একটি ‘অপরাজেয় সামরিক ত্রিভুজ’ হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশ যুক্ত হলে প্রশিক্ষণ, সন্ত্রাসবাদ দমন ও যৌথ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের সৌদি-মডেলের প্রতিরক্ষা চুক্তির আদলে একটি খসড়া তৈরিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। গত এক বছরে পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বের ঢাকা সফর বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের পাকিস্তান সফরে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যা ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তান বাংলাদেশকে দ্রুত সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এই সহযোগিতা শুধু অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ সামরিক মহড়াও এর অংশ হতে পারে।

তবে এই জোটে বাংলাদেশের যোগদান অনেকটাই নির্ভর করছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ওপর। যদিও বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময়েই খসড়া চুক্তির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে, চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে নির্বাচিত সংসদ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে এই জোট বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ হতে পারে। তবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ এই চতুর্মুখী জোটে যোগ দিলে তা মুসলিম বিশ্বের প্রধান দেশগুলোর মধ্যে এক ব্যতিক্রমধর্মী নিরাপত্তা সমন্বয়ের নজির হয়ে থাকবে।