ঢাকা, বুধবার, জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ | ১ মাঘ ১৪৩২
Logo
logo

ভারতে বিশ্বকাপ ইস্যুতে বিসিবি-আইসিসি উত্তপ্ত বৈঠক, ভিডিও কলে নিরাপত্তা নিয়ে তুমুল বাকযুদ্ধ চলছে এখনো আজ


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

ভারতে বিশ্বকাপ ইস্যুতে বিসিবি-আইসিসি উত্তপ্ত বৈঠক, ভিডিও কলে নিরাপত্তা নিয়ে তুমুল বাকযুদ্ধ চলছে এখনো আজ

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ—এই সিদ্ধান্তের কথা আগেই দুই দফায় আইসিসিকে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে আইসিসির অবস্থান ভিন্ন। তাদের দাবি, টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু বদলানো প্রায় অসম্ভব। ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও বিসিবির মতো অতটা শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে মনে করছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এই টানাপোড়েনের মধ্যেই গতকাল দুপুরে প্রথমবারের মতো ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বসেন বিসিবি ও আইসিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা। ভিডিও কনফারেন্সে হওয়া ওই সভায় ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে নিজেদের অনড় অবস্থান আবারও স্পষ্ট করে জানায় বিসিবি। একই সঙ্গে আইসিসিও তাদের যুক্তি তুলে ধরে। সব মিলিয়ে বৈঠকটি বেশ ‘উত্তপ্ত’ হয়ে ওঠে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সভায় বিসিবি সাফ জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তার কারণে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সরকারের, এখানে পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি কলকাতা ও মুম্বাইয়ে নির্ধারিত বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। বিসিবির আশা, শেষ পর্যন্ত আইসিসি এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেবে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, সূচি আগেই প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় আইসিসি তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে। তবে বিসিবি অবস্থান বদলায়নি। সম্ভাব্য সমাধান খুঁজতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। যদিও একটি সূত্রের দাবি, বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবি-আইসিসির অভ্যন্তরীণ বার্তা আদান-প্রদানের বিষয় বাইরে চলে আসায় বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আইসিসি।

সভা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভিডিও কনফারেন্সে দুই পক্ষের মধ্যে জোরালো যুক্তিতর্ক হয়। বিসিবির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়—আইসিসির নিজস্ব রিপোর্টেই যেখানে ‘ইন্টারনাল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট’-এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দল ভারতে গেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতে পারে এবং বাংলাদেশের জার্সি পরা দর্শকরাও বিপদে পড়তে পারেন, সেখানে কীভাবে আইসিসি বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে যেতে বলে?

এর জবাবে আইসিসি জানায়, ভারতে যে নিরাপত্তা শঙ্কা আছে, তা ‘লো মডারেট’ বা নিম্ন-মাঝারি পর্যায়ের। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। এতে বিসিবি পাল্টা প্রশ্ন তোলে—শুধু খেলোয়াড় নয়, বোর্ড কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং সমর্থকরাও ভারতে যাবেন; তাদের নিরাপত্তার দায়ভার কে নেবে?

বিসিবির মতে, উগ্রপন্থিদের দাবির মুখে ভারতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোই প্রমাণ করে সেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য ঝুঁকি রয়েছে। এর উত্তরে আইসিসি উদাহরণ দেয়, বাংলাদেশের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ বর্তমানে কোনো সমস্যা ছাড়াই ভারতে নিউজিল্যান্ড-ভারত সিরিজে আম্পায়ারিং করছেন। তবে বিসিবির স্পষ্ট জবাব—একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা আর পুরো দল, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়; এখানে ঝুঁকি অনেক বেশি।

উল্লেখ্য, ভিডিও কনফারেন্সে বিসিবির পক্ষে ছিলেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও সাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান নাজমূল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। আইসিসির পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সংযোগ গুপ্তা। চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন আইসিসির নিরাপত্তা ও দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারাও।