এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০১ এএম

ইরানে গত কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বাড়ায় সেখানে সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বনীতি বিশ্লেষণ সংগঠন গ্লোবাল পলিসি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট পাওলো ভন শিরাক জানিয়েছেন, যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে চলা হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “রেড লাইন” অতিক্রম করে, তাহলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মূল্য ভয়ানকভাবে কমে যাওয়ার পরে প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভে অন্তত ৬৪০ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১০,০০০ মানুষকে আটক করা হয়েছে।
ভন শিরাক বলেন, ইতোমধ্যেই ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতা বন্ধের জন্য সতর্ক করেছেন, কিন্তু যদি তা মানা না হয়, তাহলে সামরিক পদক্ষেপ সম্ভব। সম্ভাব্য হামলায় ইরানের সামরিক ঘাঁটি, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বিপ্লবী গার্ডের সংযোগস্থলগুলো লক্ষ্য হতে পারে, এবং এখানে পর্যন্ত তেলের অবকাঠামোও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তবে সরাসরি স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা কম বলে মত দিয়েছে বিশ্লেষকরা, কারণ এ নিয়ে যদি কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়, তাহলে সেটা ট্রাম্প সরকারের জন্য রাজনৈতিক জটিলতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
ট্রাম্পের নীতি সবসময় একইরকম না থাকায় তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা আগেভাগে বলা কঠিন, এমন মন্তব্যও করেছেন ভন শিরাক।
অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজগুলোকে তারা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে।
ভন শিরাক বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি কিছুটা দুর্বল হলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত, এবং সীমিত বা বড় পরিসরের মার্কিন হামলার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় বলা যাচ্ছে না।