এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম ম্যাচটিই মাঠে মারা গেল! ক্রিকেটারদের খেলাবর্জনের কারণে বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স বনাম নোয়াখালী টাইটান্সের খেলাটি পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেছে। এবং সন্ধ্যার দ্বিতীয় ম্যাচও এখন দারুণ অনিশ্চয়তার মুখে।
কারণটা কী? বিসিবির পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে পদত্যাগ করাতেই অনড় দেশের ক্রিকেট তারকারা। তাঁরা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, নাজমুল ইসলাম পদ ছাড়া না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা মাঠে নামবেনই না। এই দাবিতে তাঁরা একজোট।
"লিখিত ঘোষণা চাই, না হলে খেলা বন্ধই থাকবে"
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই সিদ্ধান্তের কথা আবারও কঠোর ভাষায় জানায়। কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের পাশাপাশি সেখানে হাজির ছিলেন দেশের তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক – লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ। বিপিএলের সংশ্লিষ্ট দলের আরও অনেক ক্রিকেটারও ছিলেন উপস্থিত।
মিঠুন স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, "বিসিবি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে, লিখিতভাবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাজমুল ইসলামকে পদ থেকে সরানোর ঘোষণা না এলে আমাদের খেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকবে।"
কীভাবে এই জটিলতার শুরু?
পুরো বিষয়টির সূত্রপাত নাজমুল ইসলামের একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য থেকে। বুধবার তিনি ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। এমনকি বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে ভালো করলে না পারলে ক্রিকেটারদের ওপর খরচ হওয়া টাকা ফেরত চাওয়া যায় কি না – এমন অবাস্তব মন্তব্যও করেন তিনি।
এর আগেও তিনি সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ আখ্যা দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। সর্বশেষ মন্তব্যের পর ক্রিকেটারদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। বুধবার রাতেই কোয়াব সভাপতি ঘোষণা দেন, নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
রাত জড় আলোচনায়ও ফয়সালা হয়নি!
ঘটনা সামাল দিতে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত একটি হোটেলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিবির কয়েকজন পরিচালক। ওই বৈঠকে কোয়াব সভাপতি মিঠুন, শান্ত, নুরুল হাসান সোহানসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো সমাধান হয়নি।
বিসিবির প্রতিক্রিয়া কি?
বিসিবি বুধবার রাতেই এক বিবৃতিতে এই পরিস্থিতিতে 'গভীর উদ্বেগ' ও 'অনুশোচনা' প্রকাশ করে ক্রিকেটারদের প্রতি সমর্থনের কথা জানায়। তারপর বৃহস্পতিবার সকালে আরেক বিবৃতিতে তারা জানায়, নাজমুল ইসলামকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিষয়টি দেখভাল করা হচ্ছে।
কিন্তু ক্রিকেটাররা এখন আর শুধু 'প্রক্রিয়াধীন' কথায় সন্তুষ্ট নন। তাঁরা চান দ্রুত ও স্পষ্ট সমাধান। বিপিএলের পরের সব ম্যাচ, এমনকি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎই এখন এই দাবি মানা না মানার ওপর নির্ভর করছে। সবার চোখ এখন বিসিবির দিকে।