এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০১ পিএম

ক্রিকেটারদের বয়কটের জেরে বিপিএলের ম্যাচ যখন মাঠেই গড়াচ্ছে না, তখন ম্যাচ না দেখতে পেরে বিক্ষুব্ধ দর্শকরা মিরপুর স্টেডিয়ামেই করে বসলেন তাণ্ডব! ম্যাচ বন্ধ রাখার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বাইরে একদল দর্শক ও ক্রিকেটপ্রেমী ভাঙচুর শুরু করেন। পরে সেনা সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কী ঘটেছিল স্টেডিয়ামে?
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুপুরের দিকে একটি বিক্ষুব্ধ জনতা স্টেডিয়ামের প্রধান গেটে জড়ো হয়। তারা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকতে চেষ্টা করে। পরে ক্রোধের বশে তারা স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থিত বিসিবির বিভিন্ন স্থাপনা এবং বিপিএলের প্রচারণামূলক বিলবোর্ড ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। ঘটনাস্থলে ইট-পাটকেল ছোঁড়ারও ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপে উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। বর্তমানে স্টেডিয়ামের আশেপাশে নিরাপত্তার চাদর টেনে দেওয়া হয়েছে, মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী।
কেন শুরু হয়েছিল এই বিক্ষোভ?
সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে বিপিএলের ঢাকা পর্ব শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ক্রিকেটাররা সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা দেন। এর জেরেই চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স বনাম রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রথম ম্যাচটিই বাতিল হয়ে যায়। হাজার হাজার দর্শক টিকিট কেটে মাঠে এসেও খেলা না দেখে ফিরে যান। এই হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই মূলত এ ধরনের প্রতিবাদের সূত্রপাত।
দাবি আদায়ের লড়াইয়ে ক্রিকেটাররা অনড়
এদিকে, বিসিবি নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দিলেও, ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের মূল দাবি ছিল তাঁকে বিসিবি পরিচালক পদ থেকেই সম্পূর্ণরূপে অপসারণ। সেই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে নামবেন না বলে বৃহস্পতিবার আড়াইটায় দ্বিতীয় দফা সংবাদ সম্মেলনেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কোয়াব। ক্রিকেটারদের এই অনড় অবস্থানের কারণেই বিপিএলের ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোও এখন অনিশ্চয়তার কুয়াশায় ঢেকে গেছে। আর সেই অনিশ্চয়তার খেসারত দিতে হচ্ছে মাঠে আসা সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের।