এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০১ পিএম

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আগুন থামছেই না, আর নিহতের সংখ্যা ভয়াবহভাবে বাড়ছে। নরওয়ের মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) গত বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এখন শত শত বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খুব গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৯০টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু দেশজুড়ে ইন্টারনেট প্রায় পুরোপুরি বন্ধ থাকায় নিহতের সঠিক সংখ্যা জানা খুব কঠিন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, আসল সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
আইএইচআরের তথ্য বলছে, শুধু ৮ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যেই অন্তত ৩ হাজার ৩৭৯ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ। এর মধ্যে অন্তত ১৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে নিশ্চিত হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের মতো কিছু সূত্র দাবি করছে, নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা প্রায় অসম্ভব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান ব্যবহার করছে। রাস্তায় আহত হয়ে পড়ে থাকা মানুষদের কাছ থেকে গুলি করে নিশ্চিত মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগও উঠেছে।
রাশত শহরের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী একদল তরুণকে ঘিরে ফেললে তারা আত্মসমর্পণের জন্য হাত তুলে দেন। এরপরও তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
কারাজ শহরে আরও ভয়াবহ অভিযোগ – নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিহতদের মরদেহের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কার্যত অঘোষিত সামরিক আইন জারি, আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে।
ইরানের রাস্তায় এখন রক্ত আর কান্নার ছবি। তরুণ প্রজন্মের এই লড়াই কোথায় গিয়ে থামবে – সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
এখানে দেখুন বিক্ষোভের কয়েকটি দৃশ্য – রাস্তায় রক্তপাত, আহতদের সরিয়ে নেওয়া, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান: