ঢাকা, শুক্রবার, জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ | ৩ মাঘ ১৪৩২
Logo
logo

কথায় নরম, কাজে শক্ত! ইরানের দিকে মার্কিন রণতরীর জোরালো যাত্রা"


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:০১ পিএম

কথায় নরম, কাজে শক্ত! ইরানের দিকে মার্কিন রণতরীর জোরালো যাত্রা"

গত কয়েকদিন ধরে ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন ও বিক্ষোভকারীদের সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে কঠোর ভাষায় কথা বলে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এখনই যেন হঠাৎ বদলে গেল তার সুর! ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার কাছে তথ্য রয়েছে যে ইরানে বর্তমানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ রয়েছে এবং ব্যাপক হারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই সরকারের।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, হোয়াইট হাউসের এই মৌখিক 'নমনীয়তা' আসলেই কতটা সৎ? নাকি এটি একটি কৌশল? কারণ এই নরম কথার মধ্যেই পেন্টাগন কিন্তু দক্ষিণ চীন সাগর থেকে তাদের শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে!

কথায় এক, কাজে আরেক!

একদিকে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ভালো খবর’ শেয়ার করছেন, অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠানো হচ্ছে। এই দ্বিমুখী অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকেই নতুন করে রহস্য আর উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার তিক্ত স্মৃতি এখনও সবার মনে তাজা। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার ইরানও আগেভাগেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনক

এদিকে, ইরানের বিক্ষোভে নিহতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি, গত তিন সপ্তাহে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের ‘সুর বদল’ আসলে কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

'বিশ্বস্ত সূত্র' থেকে তথ্য!

বুধবার হোয়াইট হাউসের একটি বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, 'খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বস্ত সূত্র' থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ড অনেকটাই কমে এসেছে। বিশেষ করে ২৬ বছর বয়সী তরুণ এরফান সোলতানানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হওয়ার খবরকে তিনি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

কিন্তু সামরিক প্রস্তুতি বলে ভিন্ন কথা

ট্রাম্পের কথায় শান্তির বার্তা শোনা গেলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং তার 'ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ'কে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে সরিয়ে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। এই স্ট্রাইক গ্রুপে রয়েছে আধুনিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান। গত কয়েক সপ্তাহ চীনের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই রণতরীটি দক্ষিণ চীন সাগরে ছিল। কিন্তু এখন ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে নিয়ে আসা হচ্ছে। পরিস্থিতি যে খুব দ্রুতই নতুন মোড় নিতে পারে, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে এই সামরিক সিদ্ধান্ত।