এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

দীর্ঘ আট বছর পর আবারও এক সুতোয় গাঁথা হতে যাচ্ছে বলিউডের সবচেয়ে বড় তিন তারকা—শাহরুখ খান, সালমান খান ও আমির খান। একসঙ্গে কোনো ছবিতে নয়, তবে ২০১৮ সালের পর ২০২৬ সালেই আবার একই বছরে তিন খানের সিনেমা মুক্তি পেতে চলেছে। আর এই খবরেই নতুন করে উত্তেজনায় ভক্তরা।
ষাটের কোঠায় পা দিলেও শাহরুখ, সালমান ও আমির—তিনজনকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ আজও কমেনি একটুও। তবে শেষবার যখন একই বছরে তিন খানের ছবি মুক্তি পেয়েছিল, সেই স্মৃতি ছিল বেশ তিক্ত। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া সালমানের ‘রেস ৩’, শাহরুখের ‘জিরো’ এবং আমিরের ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’—তিনটিই বক্স অফিসে বড় ধাক্কা খেয়েছিল।
এই ব্যর্থতার পর বলিউডে যেন হঠাৎ করেই অশনি সংকেত নেমে আসে। এর মধ্যেই করোনা মহামারি, দক্ষিণী সিনেমার দাপট আর দর্শকের ওটিটি মুখী হওয়ার প্রবণতা—সব মিলিয়ে খানদের রাজত্বও পড়ে যায় চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে হিন্দি চলচ্চিত্র।
২০১৮ সালের ক্ষতি একাই পুষিয়ে দিয়েছেন শাহরুখ খান। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া তার ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডাংকি’—এই তিন ছবি মিলিয়ে আয় করে ২০০০ কোটিরও বেশি রুপি। বলিউড বাদশাহ নতুন করে নিজের স্টারডমের সংজ্ঞা বদলে দেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে শাহরুখ নিজেই বলেছেন, এখন আর প্রমাণ করার কিছু নেই—চ্যালেঞ্জ শুধু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোনো। ২০২৬ সালের আগেই মুক্তি পাওয়ার কথা তার বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘কিং’।
অন্যদিকে, সালমান খান ফিরছেন একেবারে ভিন্ন ঘরানার সিনেমা ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ নিয়ে। এখানে নেই তার চেনা স্টাইলের স্টান্ট বা হইচই করা সংলাপ। বরং বরফে ঢাকা সীমান্ত, নিঃশব্দ উত্তেজনা আর বাস্তব যুদ্ধের আবহেই গল্প এগোবে। এক সাক্ষাৎকারে সালমান জানিয়েছেন, এখন তিনি এমন গল্প বেছে নিতে চান, যা তাকে ভেতর থেকে চ্যালেঞ্জ করে। অনেকের মতে, ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।
আর বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান বরাবরের মতোই আলাদা পথে হাঁটছেন। ‘লাল সিং চাড্ডা’র পর দীর্ঘ বিরতিতে থাকা আমির ফিরছেন ‘হ্যাপি প্যাটেল খাতারনাক জাসুস’ ও ‘লাহোর ১৯৪৭’ নিয়ে। এই দুই সিনেমায় ক্যামেরার সামনে তাকে তুলনামূলক কম দেখা যাবে, তবে গল্প ও নির্মাণের মূল দর্শনে থাকবেন তিনিই। দুই ছবির প্রযোজনাও করেছেন আমির খান নিজেই।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আট বছর পর ২০২৬ সালে আবারও ফিরছে সেই পরিচিত বিন্যাস। গল্প আলাদা, সেট আলাদা—তবু একই বছরে তিন খান মানেই বলিউডে নতুন উন্মাদনা। কিংবদন্তিদের আবার পর্দায় দেখার অপেক্ষায় এখন গোটা ইন্ডাস্ট্রি।